"বেলপাহাড়ি ও ঝাড়গ্রাম ভ্রমণ" Watch the video in this link 👇👇

https://youtu.be/jbFrtr4wAro



বিগত কয়েক মাসের লকডাউনে ঘরবন্দী তথা মাস্কবন্দী থেকে আপনার প্রাণ হয়তো হাঁফিয়ে উঠেছে...একটু মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে চাইছেন অথচ ভাবনার অকূল পাথারে হাবুডুবু খাচ্ছেন ...আপনি যদি এমনি একজন ভ্রমণপিপাসু হয়ে থাকেন তাহলে এই ভিডিও আপনার জন্য। নাহ্! বহুদিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে গিয়ে বহুদেশ ঘুরে বহু ব্যয় করার কোনো দরকার নেই। আপনি যদি একটু কৌতূহলী হয়ে থাকেন,তাহলেই দেখতে পাবেন কত শোভা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এই বাংলার আনাচে কানাচে ...যেন গেঁয়ো যোগীর মতো ভিক্ষার অভাবে অভুক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে সেগুলোও !

এই ভিডিওটি দেখার পরে আপনার মনে হতে পারে সত্যিই আমাদের সোনার বাংলা 'সকল দেশের সেরা' কিংবা যা নেই মেদিনীতে,তা নেই মেদিনীতে। হ্যাঁ,আমি অবিভক্ত মেদিনীপুরের কথাই বলছি।সত্যিই এই মেদিনীপুর জেলার একই অঙ্গে বহুরূপের সমাহার; কিন্তু উপযুক্ত সময়ের অভাবে বিগত কয়েক বছরেও সেই রূপ-লাবণ্য প্রত্যক্ষ করা হয়ে ওঠেনি।

যাহোক,এই আনলক পর্বে আমাদের এবারের গন্তব্যস্থান ছিলো ঝাড়গ্রাম ও বেলপাহাড়ি। তাই, একদিন আগে থেকে একটা গেষ্ট-হাউস বুক করা হয়ছিলো। বেলা সাড়ে এগারোটার মধ্যে আমরা ওখানে পৌঁছে গেলাম। তারপর জিনিসপত্র রেখে,একটু ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে পড়লাম গন্তব্যস্থানের উদ্দেশ্যে। প্রথমে গেলাম 'ঘাঘরা' জলপ্রপাত ও 'তারাফেনী' নদী দেখতে । বেলপাহাড়ি থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। 'ঘাঘরা' কথাটি 'গাগরি'(অর্থাৎ 'কলসি') থেকে এসেছে। যুগ যুগ ধরে নদীর জলস্রোতের ক্ষয়কার্যের ফলে জলভর্তি কলসির মতো এমন ভূমিরূপ গঠিত হয়েছে। বছরের অন্যান্য সময়ে মুকুটমণিপুর ড্যামের জলে পুষ্ট হলেও বর্ষাকালে স্বনির্ভর এই জলপ্রপাত ফুলেফেঁপে ভয়ানক আকার ধারণ করে। তাই চলাফেরার সময় যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। শোনা যায়,অতীতে 'বেহুলা-লখিন্দর' সিনেমার শ্যুটিংও হয়েছিল এখানে।

এরপর আমরা গেলাম গাডরাসিনী পাহাড় দেখতে। ঘাঘরা থেকে প্রায় তেরো কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। যাহোক,অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে অবশেষে পাহাড় চূড়ায় আরোহণ করে এভারেষ্ট জয়ের অনুভূতি হলো। এই পাহাড়ে প্রথমে বাসুদেব মন্দির ও তারপর শিখর দেশে একটি শিব মন্দির আছে। তাই একে 'বাংলার দেবলোক' বললেও অত্যুক্তি হবে না। পাহাড়ে উঠতে উঠতে হয়তো মহাভারতের স্বর্গারোহণ পর্বের কথা মনে পড়ে যাবে আপনার। হাতে যথেষ্ট সময় নিয়ে এবং অত্যন্ত সাবধানে এখানে ওঠা উচিত।

গাডরাসিনী থেকে অবতরণ করতে করতে প্রায় সন্ধ্যে হয়ে গেলো। তাই নিকটবর্তী খাঁদারাণী লেকের সৌন্দর্য্য

ঠিকভাবে উপভোগ করতে পারিনি আমরা। তবে এই গোধূলি বেলায় এই ড্যামের যতটুকু রূপ আমরা দেখেছি, তাতে রাণীকে অন্ততঃ "খাঁদা" বলা যাবে না! সূর্যদেব অস্তাচলে যাওয়ায় প্রথমদিনের ভ্রমণ এখানেই শেষ করতে হলো।

রাতের গহন অন্ধকারকে ভেদ করে জঙ্গলের মধ্যেকার রাস্তা দিয়ে আসার সময় মনে হচ্ছিলো, যেন শহরের আলোকমালা শোভিত জরা-ব্যাধি আক্রান্ত পরিবেশ থেকে আমরা অনেক দূরে আছি। এমনিভাবেই অরণ্যক্রোড়ে এখানকার দিন আনা দিন খাওয়া সুখী মানুষগুলো ভালো থাকুক,সুস্থ থাকুক এই প্রার্থনা।


গেষ্ট হাউসে ফিরে ফ্রেশ হয়ে একটু জলযোগ করা হলো তারপর ডিনার করে পরদিনের ভ্রমণের কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমের দেশে পাড়ি দিলাম।

সকাল ন'টার মধ্যেই গেষ্ট হাউস থেকে চেক-আউট করতে হবে,তাই একেবারে বাড়ি ফেরার তোড়জোড় করে বেরিয়ে পড়তে হলো।

এদিন আমরা প্রথমে গেলাম কনকদূর্গা মন্দির দেখতে। ঝাড়গ্রাম থেকে প্রায় পনেরো কিলোমিটার দূরে রহস্যময়ী গা ছমছমে ঘন জঙ্গলের মাঝে মন্দিরের অবস্থান। মন্দির সংলগ্ন প্রায় ৬৮ একর বনভূমি সম্পূর্ণ ঔষধি গাছ দিয়ে ঘেরা।এর থেকে ধারণা করা যায়, রাজা গোপীনাথের পরবর্তী উত্তরসূরীরা আয়ুর্বেদিক স্বাস্থ্য চর্চায় বিশেষভাবে পারদর্শী ছিলেন।

পাশেই কুলুকুলু শব্দে বয়ে চলেছে ডুলুং নদী। প্রায় সাড়ে চারশো বছরের ইতিহাস। পুরানো মন্দিরটি এখন ভগ্নপ্রায়,তাই নতুন মন্দিরেই পুজো হয় ।

কথিত আছে, এই মন্দিরের দেবী নাকি আজও রাতে অষ্টমীর ভোগ রাঁধেন নিজেই। তাই এখনও বেশ স্বমহিমায় পালিত হয় এখানকার দুর্গোৎসব। দূর দূরান্ত থেকে আসেন ভক্তরা। অষ্টধাতুর দুর্গা এখানে অশ্বারোহিনী চতুর্ভূজা।

ইতিহাস বলে, এই মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন রাজা গোপীনাথ সিংহ রায়। তিনি একদিন স্বপ্নাদেশ পেয়ে মায়ের সোনার বিগ্রহ কনক দুর্গাকে মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

কেউ কেউ বলেন,রাজা তাঁর তিন রাণীর কঙ্কণ পরিয়ে দিয়েছিলেন এই দেবীর হাতে। তাই দেবীর নাম হয় কনক দূর্গা।

এছাড়াও শোনা যায়,রাণী তাঁর হাতের কাঁকন খুলে দিয়েছিলেন মাতৃমুর্তি তৈরির সময়। তাই দেবীর নাম হয়েছিল কনকদুর্গা। পুরানো মন্দিরের সামনে রয়েছে তিনশো বছরেরও প্রাচীন একটি বটবৃক্ষ। এটিকে কল্পবৃক্ষ মনে করে আজও পরিবারের মঙ্গল কামনায় গাছের ডালে সুতো বাঁধেন মহিলারা।

১৯৬০সালে কনক দূর্গার সোনার মূর্তিটি নাকি চুরি হয়ে যায়। এরপর তিন দশকের ও বেশী সময় ধরে ওই মন্দিরে মূর্তি ছাড়াই পূজো চলে। তারপর ১৯৯৬ সালে অষ্টধাতুর কনক দূর্গার একটি নকল মূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

রাজা গোপীনাথ সপরিবারে সুসজ্জিত নৌকাবিহারে ডুলুং নদী দিয়ে চিল্কিগড় প্রাসাদ থেকে মন্দিরে আসতেন এবং কনক দুর্গার আরাধনা করতেন। চিল্কিগড় রাজারা কালিকা পুরাণ ও তন্ত্রমতে এই দেবীর আরাধনা করতেন। প্রতি অমাবস্যা তিথিতে এই মায়ের কাছে দেওয়া হত নরবলি। রাজার আদেশে রাজ শত্রু ও বন্দীদের নিয়ে আসা হত এই মায়ের সামনে এবং অপরাধের শাস্তি স্বরূপ দেওয়া হতো নরবলি।

যাহোক,আপনি দোকান থেকে পূজার সামগ্রী কিনে দেবীর চরণে অর্পণ করার আগেই ভগবান বজরংবলীরূপে আপনার পুজো গ্রহণ করতে পারেন...তাই লাইনে দাঁড়িয়ে পুজো না দিতে পারলেও আপনি অন্যভাবে ভগবানকে সন্তুষ্ট করতে পারবেন। এরপর ডুলুং নদী দেখে আমরা নিকটবর্তী চিল্কিগড় রাজবাড়ি দেখতে গেলাম। চিল্কিগড়ের ভ্রমণপর্ব শেষ করে আমরা ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির দিকে

রওনা হলাম। কিন্তু সেখানে প্রবেশের ব্যাপারে কিছু বিধিনিষেধ থাকায় অন্দরমহলে যাওয়া হয়নি। তাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর জন্য রাজবাড়ি ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্সে রাজকীয়ভাবে মধ্যাহ্নভোজন সেরে ঝাড়গ্রাম ভ্রমণে ইতি টানা হলো। অনেককিছুই অদেখা রয়ে গেলো, যা ভবিষ্যতে পুনরায় ঝাড়গ্রাম ভ্রমণের বীজরূপে হৃদয় অভ্যন্তরে গচ্ছিত থাকলো।

★Watch the video(Vlogging) in the above link...



28 views0 comments

Recent Posts

See All

"সারপ্রাইজ গিফ্ট"

(১) রাতের রাউন্ডটা শেষ করে ডক্টর্স রুমে গিয়ে বসে অরুষাগ্নি ৷ কিছুদিন আগেই ও এই সরকারি মেডিক্যাল কলেজ -হাসপাতালে পেডিয়াট্রিসিয়ান হিসেবে জয়েন করেছে .....সেদিক থেকে ও একান্তই নবাগত ৷ তবে এই অল্প ক'দিনেই

Subscribe to Our Newsletter

  • White Facebook Icon

© 2023 Powered by Maiti Infomedia Pvt Ltd.