আশ্রয়

________________

রুবাইয়া জেসমিন (জুঁই) 

-----------------------------


তনু শক্ত করে হাতটা ধরেছে মনোজের,মনোজ বাড়ির অমতে তাকে নিয়ে পাড়ি দিচ্ছে এক স্বপ্নের  খোঁজে।ট্রেনে তো উঠে পড়েছে উদভ্রান্তের মতো দুজনেই তড়িঘড়ি টিকিট করে কিন্তু কোথায় যাবে কিছুই জানে না।জেনারেল কামরায় কেউ এতদূর যায়না কিন্তু আর কি বা উপায় ছিল।ভিড় বর্ষাতি পুঁটিমাছের ঝাঁকের মতো থিকথিক করছে একেবারে। কোনরকমভাবে তনু গুটিসুটি হয়ে মনোজের কাছে বসে সাপটে আছে।এই সন্ধ্যায় সাধারণত আমের ব্যবসায়ীরা ফিরে এই ট্রেনের জেনারেল কামরাগুলিতে।গুমোট ভাবটা বেশ কেটে গেছে জানালা দিয়ে শোঁশোঁ হাওয়া আসছে।একটা চায়ের অর্ডার দিল মনোজ তনুর জন্য।এই তনু চা খাবে তো নাকি?সে কিছুই বলল না,বাইরে তাকিয়ে।চোখদুটো কচুপাতায় জল পড়লে যেমন টলটল করে সেভাবেই টলটল করছে।খুব মনে পড়ছে তার বাবার কথা।


আজ হয়ত অন্য একটা পরিস্থিতি হতে পারত তার জীবনে।দুইবছর আগের স্মৃতিটা এখনো দগদগ করে জ্বলে।জুলাই এর মাঝামাঝি, পার্থ আর তনু সেদিন ঘুরতে বেড়িয়েছিল লং ড্রাইভে। সময়ের জ্ঞান ছিল না সেদিন শৈশব থেকে কৈশোরের মতো সময়ও কখন যে বিকেল থেকে রাতে গড়িয়েছে।পার্থর চোখের সামনে ওরা তনুকে অত্যাচার করল!! ছিবড়ে যাওয়া শরীরটা ফেলে দিয়ে চলে যায়।


যখন জ্ঞান ফিরল তখন সে হাসপাতালের বেডে শুয়ে।পাশেই বাবা বসে।বাবা ছাড়া তো আর কেউ নেই।এক মাস পর হাসপাতাল থেকে মৃতদেহের মতো বাড়ি ফিরে তনু ফোন করল পার্থকে।কাঁপা গলায় সে আধো ভাবে উচ্চারণ করেছিল শুধু 'পার্থ',ফোনের ওপারে পার্থ অনবরত বলেই চলল 'তনু তুমি আর আমাকে ফোন করো না,আসলে আমাদের ফেমিলির একটা রেপুটেশন আছে তো তাই আর সম্পর্ক টা'..... ফোন কেটে দেয় তনু।


মুর্শিদাবাদের একটি মেন্টাল হসপিতালে মনোজ একটি এন জি ওর হয়ে মাঝেমধ্যেই আসত এখানেই তার তনুর সাথে পরিচয়।তনু তখন পোস্টট্রমেটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে ভুগছিল।সে সব জানার পরেও শক্ত করে তনুর হাতটা ধরেছিল।শিশুর হাত ধরে যেমন ভাবে মা বাবা হাঁটা শেখায়। ঈশ্বর তো এমনি হয়।

তনু শক্ত করে মনোজকে চেপে ধরে,ভিড় দেখলে আজও সে ভয় পায়।ট্রেন তার উদ্দাম বেগে ঝিকঝিক শব্দে ছুটে চলেছে।পরিচিত সব জায়গায় ফোন করে ব্যর্থ হয়েছে মনোজ,কোথাও থাকার বন্দবস্ত হয়নি।এইদিকে রাস্তা ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে, উত্তরবঙ্গ ঢুকে পড়েছে ট্রেন,বেশ একটা মিষ্টি হাওয়া আসছে।সবুজের সমারোহ চারিদিকে,এখানকার প্রকৃতির একটা স্নিগ্ধতা আছে।এক নতুন ভোরের নরম আলো তনুর মুখে আহ্লাদী আদর মাখছে।হঠাৎ 'আও মিলো চলো,  রিংটোন টা বেজে উঠল মনোজের ফোনে।জলপাইগুড়ির একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ফোন। বেশ কয়েকমাস আগে দৈনিককাগজে দেখে সে অনলাইনে তার বায়োডাটা পাঠিয়েছিল একটি শূন্যপদের জন্য।তারা সিলেক্ট করেছে তাকে,আজকেই সমস্ত নিয়ম সেরে জয়েন করতে হবে তাকে।সে আনন্দে তনুকে বুকে টেনে নিল।

Rubaiya Jesmine(Jui)

khokon Islam

Vill-Dangapara

Po-Sriram para

Ps-kotowali

Dist-Jalpaiguri

Pin-735132

0 views

Subscribe to Our Newsletter

  • White Facebook Icon

© 2023 Powered by Maiti Infomedia Pvt Ltd.