দিনান্তে দেখা (ছোট গল্প)

Updated: Apr 3

বড়ো লোহার গেটটার সামনে এসে থমকে দাঁড়ায় সোহিনী । সানগ্লাসটা খুলে নেমপ্লেটটা একবার ভালো করে দেখে নেয় । জলে-রোদে আবছা হয়ে এলেও নামটা পড়তে অসুবিধা হচ্ছে না । "দিনান্তে" 18, বিনোদ সরকার সরণী , বর্ধমান । যদিও সদ্য পূর্ব বর্ধমান হয়েছে , তবু এখনো বর্ধমান লেখাটাই থেকে গেছে । 

একটু এদিক-ওদিক দেখে সোহিনী । নাহ্ কাছেপিঠে তো কাউকেই দেখছে না , নিজেই ঢুকে পড়বে কি তবে !!!! গেটটা ঠেলতেই ধাতব আওয়াজে তার বার্ধক্য ধরা পড়ে । একটু সন্তর্পনেই গেটটা বন্ধ করে হাঁটতে থাকে । চওড়া লাল মোরাম বাঁধানো রাস্তার দুপাশে ফাঁকা জমিতে ঘরোয়া ভাবেই সবজি চাষ হয়েছে । কচি কচি লঙ্কা , লতানে গাছে কুমড়ো আরও এটা সেটা সবজি ধরে আছে গাছগুলোতে । দোতলা এল প্যাটেনের সবুজ বিল্ডিংটার সামনে ছোট ফুলের বাগান , পিছনে বেশ কিছু বড়ো বড়ো গাছও রয়েছে । সব মিলিয়ে বেশ মনোরম পরিবেশ । 

সবুজ দোতলা বিল্ডিংটার একতলায় টানা লম্বা বারান্দা । বারান্দার কোলে পরপর ঘর । দেওয়ালের সবুজ রঙের ওপর কালো আর সাদা রঙ দিয়ে  অফিসঘর লেখাটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে সামনের ঘরটাই অফিসঘর । বারান্দায় দু-তিনটে কাঠের চেয়ার আর একখানা বেঞ্চ পড়ে আছে অনাদরে , ওগুলো ধূলোর চাপ স্পষ্ট । আশ্চর্য , এখনো কোনো মানুষের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না । অথচ এখানে নাকি পঁয়ত্রিশ-চল্লিশ জন বৃদ্ধা আবাসিক থাকেন । এতো বছরের প্রতিষ্ঠান যখন , নিশ্চয় সরকারি সাহায্য পায় । তারপর নানা এনজিও-ব্যক্তিগত ডোনেশন এসব তো থাকেই । তাতেও নিরাপত্তার এই অবস্থা !!!! এ তো যে কেউ নির্দ্বিধায় ঢুকে যে কোন অপকর্ম ঘটিয়ে দিয়ে চলে যেতে পারে । নাহ্ প্রত্যেকটা গাফিলতি এবার জনগণ আর সরকারের নজরে এনে ছাড়বে সোহিনী । কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে তবে ।

একটু অসহিষ্ণু ভাবেই অফিসঘরের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢোকে সোহিনী । 

যাক্ এতক্ষণে একজন মানুষের দেখা পেয়েছে । সোহিনীকে দেখে ল্যাপটপ থেকে জিজ্ঞাসু চোখে তাকালেন এক মধ্যবয়সিনী ভদ্রমহিলা । কিছু জিজ্ঞাসা করার আগেই সোহিনী হাতজোড় করে নিজের পরিচয় দেয় । সোহিনী মজুমদার , "দৈনিক জনরব" সংবাদপত্র থেকে....

সোহিনীর কথা শেষ হওয়ার আগেই চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন মধ্যবয়সিনী । হ্যাঁ হ্যাঁ বাদলবাবু বলেছিলেন আপনার আসার কথা । বসুন আপনি ।

একটা চেয়ার টেনে বসতে বসতে একটু মজা করেই প্রশ্নটা করে সোহিনী । বাদলবাবু কে ? আমাকে উনি চিনলেন কি করে ?

একটু অপ্রস্তুত ভদ্রমহিলা । না না আপনি আসবেন বলেননি । বাদলবাবু এখানকার সেক্রেটারী । উনি আজ সকালেই ফোন করে বললেন যে কলকাতার কোন্ এক সংবাদপত্রের অফিসের রিপোর্টার আসবেন ।

ম্যাডাম অনেকদূর থেকে আসছেন । কি আনাবো বলুন আপনার জন্য চা না কোল্ডড্রিঙ্ক ?

সত্যি এতটা এসে বেশ কাহিল সোহিনী , আর তারমধ্যে যা গরম পড়েছে । একটু ঠাণ্ডা কোলড্রিঙ্ক পেটে গেলে শরীরটাও ঠাণ্ডা হবে । কোলড্রিঙ্ক-ই দিন কথাটা বলতে গিয়েও নিজেকে সামলে নেয় সোহিনী । আলগোছে দেখে নেয় নিজেকে । এই সেদিন অফিসে মৌ-পৌলমী-তথাগত-প্রশান্তরা ওকে ছেঁকে ধরেছিল । ওকে দেখে নাকি মনে হচ্ছে ও কনসিভ করেছে । উফ্ কিছুতেই ওদের বিশ্বাস করাতে পারছে না যে ওসব কিছু না । বাড়ি ফিরে আয়নায় নিজেকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখেছিল সোহিনী । সত্যিই মটু হয়ে যাচ্ছে , ভুঁড়িটা যেভাবেই হোক্ কমাতে হবে । গত পরশু থেকে ভোরের আরামের ঘুমটাকে ত্যাগ করে সিঞ্চনের সাথে হাঁটতে বেরোচ্ছে । সবে মেদ ঝরানোর সাধনায় নেমেছে , এখন কিছুতেই কোল্ডড্রিঙ্ক চলবে না । হালকা হেসে জবাব দেয় সোহিনী , চা-চিনি ছাড়া ।

ভদ্রমহিলা অন্য একটা দরজা খুলে বাড়ির ভেতরে গেলেন , সম্ভবত চায়ের ব্যবস্থা করতে ।

এই সুযোগে সোহিনী একবার চোখ বুলিয়ে নেয় সারা ঘরটাতে । বেশ বড়ো ঘরটা । একটা ঢাউস মাপের টেবিলের চারপাশে গোটা আষ্টেক কাঠের চেয়ার । টেবিলে নানারঙের কিছু ফাইল আর একটা ল্যাপটপ । চেয়ার-টেবিলে বেশ আভিজাত্যের ছোঁয়া । তিনখানা আলমারি পাশাপাশি রাখা । একটা দেওয়ালের পুরোটাই কাচের দেওয়াল আলমারি , আর তাতে সারিসারি বই সাজানো । নিশ্চয় আবাসিকাদের জন্য ছোট্ট লাইব্রেরী । দেওয়ালে ঝুলছে অনেকগুলো বাঁধানো ফটো , হয়তো বিশেষ কোন অনুষ্ঠান বা মুহুর্তের ছবি । সব মিলিয়ে গোটা ঘরটাই বেশ সাজানো-গোছানো ।

ম্যাডাম আপনার চা....

একটা বাইশ-তেইশ বছরের মেয়ে চা আর প্লেটে দুটো সিঙারা এনে রেখেছে টেবিলে ।

সোহানীর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে কি যেন দেখছিল মেয়েটা । সোহিনীর সাথে চোখাচোখি হতেই আঙুলে শাড়ির আঁচল জড়াতে জড়াতে চলে যায় ঘর থেকে ।

সেই ভোর সাড়ে পাঁচটাতে বেরিয়েছে বাড়ি থেকে । মামণি বারবার টিফিন দিতে চেয়েছিল , সোহিনী আনতে রাজি হয়নি । খিদে পেলে কিছু খেয়ে নেবে বলেছিল , কিন্তু খাওয়া আর হয়নি । এখান থেকে কাজ সেরে বেরোতে ঘণ্টা দুই-তিন তো লাগবেই , তারপর কিছু খাওয়া । ডায়েটিং ভুলে সিঙারায় কামড় দেয় সোহিনী ।

ইস্ বর্ধমান পৌঁছে একটা ফোন করতে বলেছিল সিঞ্চন , সেকথা একদম ভুলে মেরে দিয়েছে সোহিনী । মামণি নিশ্চয় এতক্ষণে টেনশন শুরু করে দিয়েছে ।

সাত মাস হলো বিয়ে হয়েছে । এরমধ্যেই মামণি ভীষণ আপন করে নিয়েছে সোহিনীকে । সোহিনীর তো মাঝে মাঝে মনে হয় মামণি বুঝি ওর শাশুড়ি নয় ওর নিজেরই মা । আসলে মা কে তো মনে পড়েনা সোহিনীর । যখন সোহিনী খুব ছোট তখন নাকি মা সংসার ছেড়ে অন্য কারো সাথে ....

আর মায়ের কথা মনে করতে চায়না সোহিনী । যদিও রুমা মাসি মায়ের অভাব কখনো বুঝতে দেয়নি সোহিনীকে , তবু মা তো নয় । মা কে কখনো ক্ষমা করতে পারবে না সোহিনী । শুধু কি সোহিনীর জীবনটা !!!! বাবার জীবনটাও শেষ হয়ে গেছে মায়ের জন্য । বাবা তো নিজের সুখের কথা ভেবে আর নতুন করে সংসার করেনি । বাবাও যদি নিজের সুখের কথা ভাবতো , কোথায় ভেসে যেতো সোহিনী !!!! এক অদ্ভুত কৃতজ্ঞতায় বাবার জন্য মনটা কেমন করে ওঠে সোহিনীর । কতদিন বাবার কাছে যায়নি । নেক্সট যেদিন সিঞ্চনের ছুটি থাকবে বাবার কাছে যাবে দুজনে । বাবাকে কিছু না বলে গিয়ে একেবারে চমকে দেবে ।

রুমালের কোণ দিয়ে চোখের কোণটা মুছে চায়ে চুমুক দেয় সোহিনী । ইস্ একেবারে ঠাণ্ডা হয়ে গেছে ।

মধ্যবয়সিনী ভদ্রমহিলা ফিরতেই কথা শুরু করে সোহিনী ।

এবার কাজের কথাতে আসা যাক্ । আপনার পরিচয়টাই তো জানা হলো না এখনো ।

আমি জয়ন্তী রক্ষিত , দিনান্তের সুপারিন্টেডন্ট ।

আপনাদের এখানে কতজন স্টাফ্ আছেন ?

খাতায় কলমে দশজন হলেও , আরো দুজন ক্যাজুয়াল স্টাফ আছেন ।

আপনাদের এটা কি সরকারী....

কথাটা শেষ হওয়ার আগেই বলতে শুরু করেন জয়ন্তীদেবী , না সরকারি সাহায্য তেমন আর কৈ পাই । যা পাই তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম । 

তাহলে এখানকার খরচ চলে কিভাবে ?

এখানে যাঁরা আছেন তাঁরা প্রত্যেকেই একটা অঙ্কের টাকা জমা রাখেন । সেই টাকাগুলোর ইন্টারেস্টেই চলে মূলত । মূল টাকাটার অর্ধেক মৃত্যুর পর তাঁদের বাড়ির লোককে ফিরিয়ে দেওয়া হয় । তবে অনেকেই মৃত্যুর খবর পেয়েও আসেন না , টাকাও ফেরত নেন না । এছাড়াও কিছু এনজিও সাহায্য করে ...

আপনাদের এখানে কতজন আবাসিকা আছেন ?

এখন সাঁইত্রিশজন , গত সপ্তাহেই একজন মারা গেছেন ।

আপনাদের এই "দিনান্তে" কতো বছর হলো ?

1987তে চালু হয়েছিল । তখন অবশ্য অন্য একজায়গায় ভাড়া বাড়িতে ছিল ।

এখানে কতদিন হলো ?

1993 থেকে এখানে ....

এই জায়গাটি কি সরকারি সাহায্যে ....

না না এটা একজন দান করেছিল "দিনান্তে"কে । তাঁর পৈত্তৃক জায়গা ছিল এটা । তবে বিল্ডিং তৈরির সময় সরকারি সাহায্য পাওয়া গিয়েছিল । 

যিনি এই জায়গাটি দিয়েছিলেন , তিনি নিজেও এখানেই থাকেন আজ সাতাশ-আটাশ বছর ধরে ।

তাই !!!! বেশ অবাক হয় সোহিনী ।

বাবা মারা যাওয়ার পর নিজেকে সমস্ত আত্মীয় পরিজনের থেকে সরিয়ে নিয়ে এখানেই আছেন তিনি । হয়তো কোন ঘটনা তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিল !!!! একটু যেন বেশিই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছেন ভদ্রমহিলা ।

প্রসঙ্গ পাল্টাতে সোহিনী জিজ্ঞাসা করে , আপনি তাহলে সেই প্রথম থেকেই আছেন এখানে ?

না না এসব আমার শোনা কথা । তবে নয় নয় করে আমি এখানে আছি সতের-আঠারো বছর তো হয়েই গেলো ।

আরো কিছু বলতে যাচ্ছিল সোহিনী ।

এমন সময় যে মেয়েটা চা দিয়ে গিয়েছিল সে জয়ন্তীদেবীর কাছে এসে ফিসফিস করে কিছু বলে ।

ম্যাডাম আপনি যদি সবার সাথে কথা বলতে চান তো চলুন আগে ঘুরে আসি । নাহলে এরপর আবার ওনারা লাঞ্চ করে একটু বিশ্রাম করেন । যতই হোক্ বয়স্ক মানুষ তো ...

ইস্ এটা তো সোহিনীর-ই মাথায় রাখা উচিত ছিল ।

অফিস ঘর থেকে বেরিয়ে ডানদিকে উপরে উঠার সিঁড়ি  । নীচের মতোই ওপরটা । চওড়া বারান্দার কোলে সারি সারি ঘর । বারান্দায় কোনো গ্রিল নেই । এতো যে কেউ রেনপাইপ দিয়ে বা অন্য কোনো ভাবে ওপরে উঠে পড়তে পারবে । না না এখানকার নিরাপত্তার অভাবটা বেশি করে নজরে আনতে হবে । বয়স্কা মানুষগুলোকে বাড়ির মতো নিরাপত্তা দেওয়াই এঁদের কর্তব্য ।

আসুন ম্যাডাম , আমরা হলঘরে গিয়ে বসি ।

জয়ন্তীদেবীর পিছু পিছু যেতে গিয়ে খোলা দরজাগুলো দিয়ে ঘরের ভেতরগুলো খেয়াল করে সোহিনী । সব ঘরেই তিনটে করে বিছানা , তারমানে তিনজন করে থাকেন একটা ঘরে ।

টানা বারান্দার শেষে হলঘরটা বেশ বড়ো । টিভি রয়েছে ঘরে । মেঝেতে সতরঞ্চি পাতা । এককোণে একটা সিঙ্গল খাট । আর দশ-পনেরটার ও বেশি চেয়ার ছড়ানো ছিটানো । টিভিতে কোনো বাংলা সিরিয়াল  হচ্ছে , ভলিউম বেশ জোরে দেওয়া রয়েছে , একেবারে গমগম করছে গোটা ঘর । একজন খাটে শুয়ে , কেউ চেয়ারে-কেউ সতরঞ্চিতে বসে একমনে সিরিয়াল দেখছেন ।

এই দেখুন ইনি এসেছেন আপনাদের সাথে দেখা করতে , বেশ জোর গলাতেই কথাটা বলেন জয়ন্তীদেবী ।

সবাই টিভি থেকে চোখ ফেরান । কেউ একজন সাউণ্ডটা কমিয়ে দেন ।

ম্যাডাম একটা সংবাদপত্র থেকে এসেছেন । আচ্ছা আপনারা কথা বলুন , আমি একটু পরে আসছি ।

জয়ন্তীদেবী চলে গেলেন । একটা চেয়ারে বসেছে সোহিনী । কিভাবে এনাদের সাথে কথা শুরু করবে ভাবছে । বড্ড অস্বস্তি লাগছে সোহিনীর , সবাই যেন কি মনোযোগ দিয়ে দেখছে সোহিনীকে ।

অস্বস্তিটাকে আর বাড়তে না দিয়ে কথা শুরু করে সোহিনী ।

সবথেকে বয়স্কা একজন বৃদ্ধাকে দিয়েই কথা শুরু করে । আচ্ছা মাসিমা আপনি কতদিন আছেন এখানে ?

তা 12-13 বছর তো হলোই ....

বাড়ির কথা মনে পড়ে না ?

বাড়ির কথা কি আর ভোলা যায় !!!! একবুক দীর্ঘশ্বাস ফেলে কথাটা বলেন তিনি ।

ততক্ষণে সবাই বলতে শুরু করেছে । বাড়িতে বৌমার সবসময় খিটখিটিনির থেকে ভালো আছেন এখানে । আবার কেউ বলছেন যত ভালোই থাকুক এখানে বাড়ি তো নয় । কেউ এখানে এসে সমব্যথীদের পেয়ে নিজের দুঃখ ভুলেছেন , কেউ এখনো পারেননি ভুলতে । এখনো বাড়ির কথাতে চোখ জলে ভরে উঠছে । এরই মাঝে একজন বলে ওঠে , তোমাকে দেখতে একদম আমাদের স্বপ্নার মতো ।

হেসে ওঠে সোহিনী । তাই !!!!

স্বপ্না কে ? তাঁকে তো দেখছি না ।

ও ওর ঘরেই থাকে বেশি সময় , আমাদের মতো টিভি দেখার নেশা নেই ওর ।

ঢাকুন না ওনাকে একটু এখানে , ওনার সাথে একটু কথা বলি ।

আসুন আমি আপনাকে ওনার ঘরে নিয়ে যাচ্ছি ।

জয়ন্তীদেবী কখন যে আবার এঘরে ফিরে এসেছেন খেয়াল-ই করেনি সোহিনী ।

সবাই যেতে যাচ্ছিল ওদের সাথে । জয়ন্তীদেবী ইশারায় থামিয়ে দিলেন সবাইকে ।

স্বপ্নাদির কথাই বলছিলাম আপনাকে , উনিই দিয়েছেন এই জায়গাটা । 

দরজাটা ভেতর থেকে ভেজানো ছিল । কড়া নাড়ানোর প্রায় সাথে সাথেই খুলে গেলো দরজাটা ।

চমকে ওঠে সোহিনী । মায়ের কোন ফটোও সোহিনী কখনো দেখেনি । তবে সবাই বলে সোহিনী নাকি ওর মায়ের মতো দেখতে হয়েছে । তবে স্বপ্না নামটা অজানা নয় সোহিনীর । 

প্রবল ঘৃণা আর অভিমানে দরজা থেকেই ফিরে আসছিল সোহিনী ।

কিন্তু "ভিতরে এসো" ডাকটাকে কেন যেন অগ্রাহ্য করতে পারলো না ।

টুকটাক কিছু কথা । কিছু ব্যক্তিগত প্রশ্ন করতেই পারতো , যেন স্বাচ্ছন্দ্য পাচ্ছে না সোহিনী । তবে উনি যে প্রবল অভিমানী সেটা ওনাকে দেখেই বোঝা যায় ।

এবার উঠতে হবে , বলেই উঠে পড়ে ।

আবার এসো পারলে....

ঘর থেকে বেরোতে গিয়েও পিছন ফিরে তাকায় সোহিনী ।

সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে জয়ন্তীদেবী কত কথা বলে চলেছেন । স্বপ্নাদি যে বয়স থেকে এখানে আছেন , সে বয়সে কতজন নতুন করে সংসার করে । ধন্য মানুষ বলিহারী স্বপ্নাদির বরটা , এমন মানুষকেও মিথ্যা বদনাম দিয়ে ঘরছাড়া করে !!!! জানেন কোলের মেয়েটাকে অবধি আটকে রেখেছে নিজের কাছে ।

আরো চমকে ওঠে সোহিনী ।

আচ্ছা আপনি এই সমস্ত কথা তো শুনে বলছেন , কোন প্রমাণ আছে আপনার কাছে ?

প্রত্যেকের নামে নিজস্ব ফাইল আছে ম্যাডাম । সেখানে জীবনের সব ঘটনার বয়ান লিখতে হয় এখানে থাকার আগে ।

সে তো কেউ মিথ্যা লিখতেও পারে ।

একবার পিছন ফিরে তাকান জয়ন্তীদেবী ।

তা লিখতেও পারে । তবে কিছু সত্যি তো চোখের দেখাতেও বোঝা যায় ।

জয়ন্তীদেবী কিছু কি ইঙ্গিত করলো সোহিনীকে !!!!

আচ্ছা আমাকে স্বপ্নাদেবীর ফাইলটা একটু দেখতে দেবেন ?

না ম্যাডাম এটা সম্ভব নয় ।

জয়ন্তীদেবীর হাতদুটো চেপে ধরে সোহিনী , প্লিজজজ....

কি জানি কি ভাবলেন মুহুর্তকাল । আচ্ছা বসুন , আমি বাদলবাবুর সাথে কথা বলে দেখি ।

মাথার ওপর বনবন করে ফ্যান চলছে , তবুও ঘামছে সোহিনী । এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সবার সামনে তুলে ধরতে চেয়েছিল । কিন্তু এ কি সত্যি উঠে এলো ওর সামনে !!!!! অসম্ভব নিরাপত্তাহীনতা কুড়েকুড়ে খাচ্ছে সোহিনীকে । তবে কি বাবা আর রুমা মাসিই ........

-----------------------------

বনবীথি পাত্র পাটুলি স্টেশন বাজার  জেলা -- পূর্ব বর্ধমান 

0 views

Subscribe to Our Newsletter

  • White Facebook Icon

© 2023 Powered by Maiti Infomedia Pvt Ltd.