জামাইষষ্ঠীর বা অরণ্যষষ্ঠীর ইতিহাস সাথে থাকুক স্পেশাল সাবেকিপটল

লেখক জহর সরকার বলছেন,"আঠারো-উনিশ শতকে বাংলার সচ্ছল শ্রেণিতে বাল্যবিবাহ এবং বহুবিবাহের ব্যাপক প্রচলন হয়, ফল বাল্যবিধবার যন্ত্রণাময় জীবন, বিস্তর সতীদাহ। এই অবস্থায় জামাই ও স্বামীর দীর্ঘ জীবন প্রার্থনা বাঙালি মা ও মেয়ের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জ্যৈষ্ঠ মাসেরই কৃষ্ণপক্ষে সাবিত্রী চতুর্দশীতে স্ত্রীদের যমের আরাধনা করে স্বামীর দীর্ঘজীবন কামনার পুরনো লোকাচারটির সূত্র ধরেই কলকাতার বাবু সংস্কৃতি শুক্লপক্ষের ষষ্ঠীটি জামাইকে নিবেদন করেছিল।”


আজকের কর্পোরেট জগতের উঁচু উঁচু বিল্ডিংয়ের মাঝে নিজের সংস্কৃতি নিয়ে দিব্য মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে বাঙালিয়ানার জামাইষষ্ঠী। রীতি মেনে জামাইকে তালপাতার পাখা দি বাতাস করা, হাতে বেঁধে দেয়া লাল হলুদ সুতো, থালা ভরে সাজিয়ে দেয়া আম কাঁঠাল লিচু দুধ আর বাহারী পঞ্চব্যঞ্জন


আজ একুশে জৈষ্ঠ্য। জামাইষষ্ঠী। শুরু থেকে কিন্তু এই জামাইষষ্ঠী ব্রত ছিল না, পুরাণ অনুযায়ী ছিল অরণ্য ষষ্ঠীর পূজা এবং ব্রতকথা শ্রবণ। নানান উপাচার সাজিয়ে মাষষ্ঠীর পুজো ঘরে ঘরে। প্রাচীন সময়ে নারী ছিলেন সংসারের আধার। পুরুষের রোজগারে চলত তার ভরণপোষণ, কথিত আছে মাষষ্ঠীর দেবী জৈষ্ঠ্যমাসের শুক্লপক্ষ ষষ্ঠীতে এক বৌকে অরণ্যে বসে ব্রতকথা পালন নিজে শিখিয়েছিলেন। সেই বৌ তার মেয়ে এবং জামাইকে নিমন্ত্রণ করে তাদের নামে পুজো দিয়ে মরসুমি ফল আম কাঁঠাল লিচু জাম দিয়ে ভোগ সাজাতেন। সেই থেকেই ধীরে ধীরে এই ষষ্ঠী জামাইদের নামে নামকরণ হয়


মেয়ের জামাইকে পঞ্চব্যঞ্জন রেঁধেবেড়ে খাওয়ানোর দিন আজ। আজ নিয়ে এলাম বাহারী পটল। একঘেয়ে পটলরসা বা পটলচিংড়ি খেতে খেতে বা খাওয়াতে খাওয়াতে যখন দু'পক্ষই বিরক্ত তখন হেঁসেলে আসুক সাবেকি পটল


উপকরণঃ

পরিমাণ মতো পটল

সাদা তিল

নারকেল কোড়া

কাজুবাদাম

কিসমিস

কাঁচালঙ্কা

দুধের সর (মিহি করে পেস্ট করা)

নারকেলের দুধ

ব্যসন (ড্রাই রোস্ট করা)

দই

সর্ষের তেল


পটলের খোসা হালকা করে ছাড়িয়ে নিয়ে গোটা গোটা অবস্থাতেই ধুয়ে নুন হলুদ আর অল্প তেল মাখিয়ে রেখে দিতে হবে মিনিট পনেরো। এরপর, একটা মশলা রেডি করতে হবে, সাদা তিল চারমগজ নারকেল কোড়া কাজুবাদাম কিসমিস কাঁচালঙ্কা... এই সব উপকরণ অল্প অল্প করে নারকেলদুধ দিয়ে বেটে একটা মিহি থকথকে পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে। এরপর কড়াইতে পরিমাণ মতো সর্ষের তেল দিয়ে গরম হলে নুন হলুদ মাখানো পটল দিয়ে দিতে হবে। পটলগুলো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এদিক ওদিক করে ভেজে নিতে হবে মিনিট দশেক সময় ধরে,খুব কড়া ভাজা হবে না কিন্তু,সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এরপর কড়াই থেকে পটল তুলে নিয়ে ওই তেলে দু'চামচ ঘি দিতে হবে,ঘি গরম হলে তেজপাতা এলাচ আর দারচিনি ফোড়ন দিয়ে এক মিনিট মতো অপেক্ষা করতে হবে, সুগন্ধ বেরোতে শুরু করলে আগে থেকে পেস্ট করে রাখা মশলা দিতে হবে তেল ঘিয়ের মিশ্রণে। এই সময় গ্যাসের তাপ থাকবে একদম কম। নাড়াচাড়া করে কষাতে হবে,মশলা কষানো থেকে তেল ছাড়তে শুরু হলে ফেটিয়ে রাখা টকদই দিতে হবে, হাফ চামচ চিনি এই সময় দিয়ে দিতে হবে। দুধের সর মিক্সিতে পেস্ট করে নিতে হবে। এই পর্যায়ে এসে দুধের সরের মিহি পেস্ট অ্যাড করতে হবে রান্নায়। এবার ভেজে রাখা পটল এবং ড্রাই রোস্ট করা ব্যসন একসাথে ঢেলে দিতে হবে কড়াইতে। তারপর পাঁচ মিনিট চাপাঢাকা। পাঁচ মিনিট পর ঢাকনা খুলে ওপর থেকে সামান্য নারকেল কোড়া ছড়িয়ে দিলেই তৈরি সাবেকি পটল



364 views0 comments

Recent Posts

See All

কলকাতা মানেই কালী। আর তাই কালী কলকাত্তাওয়ালী। প্রচলিত এই বাক্যবন্ধই বুঝিয়ে দেয় যে কলকাতা আর কালীর সম্পর্ক কতটা প্রাচীন। কিন্তু কোথায় সেই কলকাতার কালী। জঙ্গলাকীর্ণ কলকাতায় কালীই পূজিতা। আর সেক্ষেত্রে য