Khirai:Valley of flowers

বাংলার রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চ যখন ফুল বদলের আনন্দে মেতে রয়েছে,তখন আপনি ফুলবদল না-ই বা করলেন...! অন্ততঃ ফুলের উপত্যকা থেকে একটু হাওয়া-বদল করে আসতে পারেন। বেশি দূরে যেতে হবে না...এই বাংলাতেই আছে সেই ফুলের স্বর্গরাজ্য...ঘর থেকে দু'পা বাড়ালেই পৌঁছে যেতে পারবেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ক্ষীরাই। কাঁসাই ও ক্ষীরাই নদীর মধ্যবর্তী উপত্যকায় বিস্তীর্ণ জমিতে প্রতিবছর শীতকালে ফুলের মেলা বসে। তবে বছরের অন্য সময় ফুলের পরিবর্তে বাদাম চাষ হয়।

শরতের শ্বেতশুভ্র কাশবনের পরিবর্তে এখানে আছে বর্ণময় ফুল...শীতেই যেন বসন্তের শোভা অনুভব করা যায়!

কী নেই সেখানে? গাঁদা(নাহ্!লাল গেঁদাফুল দেখতে পাবেন না এখানে), গোলাপ, আষ্টার, চন্দ্রমল্লিকা, মোরগঝুঁটি এবং আরও কত নাম না জানা ফুল। এছাড়া আছে নানা প্রজাতির পাখি,প্রজাপতি,ফড়িং আর পোকামাকড়।

রাজ্যের সমগ্র ফুলের চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশই এখানে চাষ হয়।

এই অনিন্দ্য সুন্দর দৃশ্যকে লেন্সবন্দী করতে সম্প্রতি পর্যটকদের আনাগোনাও বেড়েছে বেশ...আট থেকে আশি সকলেই সকাল থেকে ভিড় জমাতে শুরু করেন।

তবে চন্দ্রমল্লিকার বাগান দেখতে হলে আরেকটু কষ্ট করতে হবে। এখানকার কাঁসাই নদী মুমুর্ষু...সেতুবন্ধনের মাধ্যমে রুদ্ধগতি। তাই অনায়াসে এই নদী পেরিয়ে গ্রামের রাস্তা দিয়ে একটু হাঁটলেই খুঁজে পাবেন চন্দ্রমল্লিকার রাজত্ব। ড্রোন ক্যামেরায় দেখলে মনে হবে যেন কেউ ক্ষীরাইকে রঙিন চাদরে মুড়ে দিয়েছে...আর সাদা চন্দ্রমল্লিকার বাগান দেখে দূর থেকে মনে হতে পারে তুষারাবৃত ভূমি কিংবা সমুদ্রের সফেন ঢেউ।



★পথনির্দেশ:


হাওড়া থেকে খড়গপুর বা মেদিনীপুর গামী ট্রেন ধরে পাঁশকুড়ার পরের স্টেশন ক্ষীরাই। সময় লাগে প্রায় দু'ঘন্টা।ক্ষীরাই স্টেশনে নেমে তিন নম্বর লাইনের পাশ দিয়ে পাঁশকুড়ার দিকে প্রায় ২০ মিনিট মতো হেঁটে সরু মাটির রাস্তা বরাবর কিছুদূর যাওয়ার পর পড়বে দিগন্ত বিস্তৃত রঙবেরঙের বাহারি ফুলের সম্ভার।


★সতর্কতা:

মনে রাখবেন,

১)ফুলের বাগান সংলগ্ন এলাকায় দোকানপাট তেমন নেই। তাই পর্যাপ্ত জল ও খাবার সঙ্গে রাখতে হবে। আশেপাশে কোনো টয়লেটের ব্যবস্থাও এখনো পর্যন্ত নেই..এই বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

২)বাগানের ভিতরে ঢুকে ফটোশ্যূট না করাই শ্রেয়। অনুমতি না নিয়ে ফুল ছেঁড়া বা ফুলে হাত দেওয়া যাবেনা।

৩)প্লাস্টিকজাতীয় দ্রব্য ফেলে এই নান্দনিক পরিবেশকে দূষিত করা থেকে বিরত থাকুন।

৪)যে লাইনের পাশ ধরে হাঁটতে হবে সেখান দিয়ে অহরহ দূরপাল্লার ট্রেন ছুটছে। তাই চলার সময় যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

৫)সকালে গিয়ে বিকেলে ফিরে আসার পক্ষে ক্ষীরাই উপযুক্ত । তবে যদি কেউ রাত্রিযাপন করে ভোরে ক্ষীরাইয়ের রূপদর্শনে ইচ্ছুক হন, তবে পাঁশকুড়া/মেচেদায় রাত্রিবাস করতে হবে।


★সম্ভাবনা:

যাহোক,ক্ষীরাইয়ের ভবিষ্যত যে অতি উজ্জ্বল..এই অঞ্চলে সম্প্রতি পর্যটকদের ভিড় দেখেই তা অনুমান করা যায়। সরকারি আনুকূল্য পেলে অদূর ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্রে ক্ষীরাই একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠবে এবং এখানকার অধিবাসীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ঘটবে।

★Watch the video here👇👇