গল্পঃ দাদা (নয়ন বসু) [Audio & e-book]

শুনুন অডিও ফরম্যাট-এ ( Audio story with background music) [ click the image below ]

Link to the Audio story: https://www.banglacanvas.com/podcast/episode/3df4bf03/short-audio-story-dada-brother


গল্প পড়ুনঃ


আমি তথাগত সান্যাল। আমার দাদা দেবদত্ত সান্যাল। আমার দাদা মারা যায় ছবছর বয়সে। তখনো আমি জন্মাইনি। আমাদের দোতলা বাড়ি, তিনতলায় ছাদ। সেই ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে দাদা মারা যায়। কোনো এক দুপুরে একা একাই খেলছিল ছাদে। কিকরে পড়ে যায় সেটা আজো রহস্য। বেশীরভাগ লোকের ধারণা দাদা আম পাড়তে গিয়ে ডিসব্যালান্স হয়ে পড়ে যায়। আমারও সেরকমই মনে হয়।

আমাদের বাড়ির সামনে একটা ছোটো বাগান মতন আছে। সেখানে বাবা আর মা দুজনে মিলে খুব যত্নে ছোট ছোট গাছ লাগাতো। বড় গাছ ওই আমগাছটাই। দাদার লাল জামা আটকে গিয়ে ঝুলছিলো আমগাছটার ডালে।

তার দুবছর পর আমার জন্ম। বাড়ির সবচেয়ে বড় শোবার ঘরটায় দাদার একটা বিশাল ছবি ঝোলে। বুক অবধি ছবিটা। দাদা একটা লাল হাফহাতা জামা পরে তাকিয়ে আছে। ফর্সা চেহারায় জামাটা মানিয়েছে খুব সুন্দর। ছবিটা আজও আছে। ওটা বাবা মায়ের ঘর। আমি ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি দাদা নাকি খুব খুব ভালো ছেলে ছিলো। সবসময় বড়দের কথা শুনতো, পড়াশোনায় খুব ভালো ছিলো ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমার ভালো লাগতোনা। যাকে চিনিই না তার সঙ্গে তুলনা কারই বা ভালো লাগে। তবে আমায় সারাজীবন ধরেই আমার মৃত দাদার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে কাটাতে হয়েছে। এমনকি আমার চাকরিতে ঢোকার পরও বাবা বলেছে দাদা হলে আরো ভালো চাকরি পেত।

তবে বাবা কি মা যেটা জানতোনা সেটা হলো আমি ছোটবেলা থেকেই দাদাকে দেখতে পেতাম। আমগাছটার নীচে দাঁড়িয়ে আছে চুপটি করে। গায়ে সেই ছেঁড়া লাল শার্ট। বাকি অংশটা গাছের ডালে আটকে আছে। সেটাও স্পষ্ট দেখা যেত। মাথা ফেটে লাল টকটকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে সারা গায়ে।

আমি যখন ছাদে খেলতে যেতাম দাদা ডাকতো পাঁচিলের দিকে। দাদা পাঁচিলের ওপর দাঁড়িয়ে আছে আর আমায় মুচকি মুচকি হেসে ডাকছে, আয় আয়, আয়না।

আমি যেতামনা। জানি ধারে গেলেই দাদা ফেলে দেবে আমায় ধাক্কা মেরে। মাকে একবার বলেছিলাম। মা হেসেই উড়িয়ে দিলো। বললো আমার মনের ভুল। আমি আর বেশি কিছু বলিনি। কিন্তু বেশ বুঝতাম দাদা আমায় মেরে ফেলতে চাইছে।

সিঁড়ি দিয়ে নামছি, হঠাৎ পেছন থেকে কেউ যেন ধাক্কা দিলো। টাল সামনে পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখি কেউ নেই। বাবা জিজ্ঞেস করছে, কি দেখছিস? আমি বললাম, কেউ ধাক্কা দিলো। বাবা বললো, ধুর কেউ নেই এখানে।

রাস্তা পার হচ্ছি, অবিকল এক ব্যাপার। বাড়ি ফিরে আমার জানলার সামনে দাঁড়িয়েছি। দেখি দাদা আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে। তখনও দাদার গায়ে ওই লাল জামা। কিন্তু ছেঁড়া নয়। মাথা দিয়ে রক্তও পড়ছেনা।

পরীক্ষার আগে আগে বই নিখোঁজ হয়ে যেতে লাগলো তারপর। আমি যত বাবা মা কে বলি আমি লুকিয়ে রাখিনি, কেউ বিশ্বাস করেনা। পড়াশোনায় আমিও খারাপ ছিলামনা ছোটবেলায়। দাদা চাইতোনা আমার পরীক্ষা ভালো হোক। অনেকবার হয়েছে এইরকম।

শেষমেশ বই পাওয়া গেছে খাটের নিচে, রান্নাঘরে, চিলের ছাদে। অনেক জায়গায় আমার হাতই পৌঁছতনা। তাও কেউ বিশ্বাস করতোনা আমার কথা। দুয়েকবার দেখা গেল বই ঝুলছে আমগাছের ডালে। একবার গাছের সামনে মাটিতে ধুলোয় মাখামাখি।

অথচ আমি চাইতাম দাদা কথা বলুক আমার সঙ্গে। কি চায় সে বলুক। স্কুলে কত বন্ধুদের দেখি দাদাদের সঙ্গে হাত ধরে স্কুলে আসে, কত বন্ধুর মতো মেশে, খেলা করে। আর আমার দাদা আমায় মেরে ফেলতে চায়! খুব কষ্ট হতো।

একদিন ছাদে খেলতে গেছি। দাদা এসে দাঁড়িয়েছে পাঁচিলের ওপর। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কিছু বলবে আমায়?

দাদা চুপ।

খেলবে আমার সঙ্গে?

দাদা চুপ।

তুমি তো দাদা আমার। দাদারা তো ভাইদের ভালো করে। তুমি খারাপ চাও কেন আমার?

দাদা চুপ। একতরফা কতই বা কথা বলা যায়! দাদা চুপটি করে দাঁড়িয়ে। তখন গ্রীষ্মের দুপুর। ঝাঁঝাঁ করছে রোদ। দাদা একসময় পাঁচিলের ওপর থেকে নামলো। ভাবলাম কিছু বলবে আমায়। একটা অদ্ভুত হাসি হাসলো দাদা। বলে বোঝাতে পারবোনা ঠিক। তারপর হঠাৎ করে পাঁচিল টপকে ঝাঁপ দিল নীচে। আর সঙ্গে সঙ্গে কানফাটা চিৎকার।

আমি ছুট্টে গিয়ে দেখি একটা গাছের ডালে আটকে আছে দাদা। ঝুলছে ডালটা ধরে। তারপর হাত ফসকে দাদা পড়ে গেল নীচে। মাথাটা ঠিক যেমন ডিম ফাটে, ওরকম করে ফেটে গেল। ভেতর থেকে ঘিলু রক্ত মাটিতে মিশে একাকার কান্ড। আমি ওই দৃশ্য দেখে সহ্য করতে না পেরে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেলাম।

আরেদিনের কথা। সেদিন আমি ব্লেড দিয়ে একটা পেন্সিল কাটছিলাম। সেই পেছন থেকে ধাক্কা। গেল আঙ্গুল কেটে। একেবারে রক্তারক্তি কান্ড। বাবা ছিলোনা বাড়িতে। মা ডেটল দিয়ে ভালো করে বেঁধে দিলো জায়গাটা।

তারপর দুপুরবেলা মা আমায় জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে। আমরা ঘুমিয়ে পড়েছি। একটা শব্দে ঘুম ভেঙে দেখি দাদা দরজার ফাঁক দিয়ে আমাদের দেখছে। দাদার চোখটা টকটকে লাল।

আমি ভীষণ ভয় পেয়ে চিৎকার করে মাকে ডাকলাম। মা উঠে কিছুই দেখতে পেলোনা।

আমার তখন বছর দশেক হবে। এই ঘটনার পরেই বাবা মা আমায় ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। বয়স্ক ডাক্তার। অনেককিছু জিজ্ঞেস করলেন আমায়। কি খেতে ভালো লাগে, কোন সাবজেক্ট পড়তে ভালো লাগে, রাতে ঘুমোই কখন, ঘুম হয় কিনা, কখন দাদাকে দেখি, দিনের কোনো নির্দিষ্ট সময় দেখি কিনা, দাদা কি পরে থাকে এই সব। মনে হলো উনি বিশ্বাস করছেন আমার ওপর। বাবা মা করেনি।

তাই সব খুলে বললাম ওনাকে। উনি কি বুঝলেন জানিনা। এরপর থেকে শুরু হলো ওষুধ খাওয়া। কি ওষুধ জানিনা, খালি ঘুম পেত আমার। ভালো লাগতোনা। কিন্তু দাদাকে দিব্বি দেখতে পেতাম। আমগাছের তলায় দাঁড়িয়ে আছে। কোনোদিন রক্ত পড়ছে, কোনো কোনোদিন একদম ফিট আমার দাদা।

মাসখানেক পর আবার গেলাম ডাক্তারের কাছে। অনেককিছু বোঝালেন। চোখ কিকরে কাজ করে, মন কিকরে কাজ করে। আমার বয়সের মতো করেই বোঝালেন। শুনলাম ফ্রান্সের কোন এক গ্রামে নাকি আমার বয়সী একটা মেয়ে প্রভু যীশুকে দেখতে পেত। তারপর চিকিৎসা করিয়ে এখন একদম ঠিক আছে সে।

বুঝলাম ডাক্তারবাবু বিশ্বাস করছেনা আমার কথা। অদ্ভুত ব্যাপার, দাদার জন্য খারাপ লাগতে শুরু করলো আমার। একটাই দাদা আমার, সে যেমনই হোক, আমি বলছি সে আছে। অথচ কেউ মেনে নিতে রাজি নয় যে সে থাকতে পারে।

ডাক্তারবাবুকে বলে দিলাম আর দেখিনা। আবার সব আগের রুটিনে চলতে থাকলো।

তারপর আমার বয়স বাড়লো। ছোট স্কুল থেকে বড় স্কুলে গেলাম। দাদা কিন্তু বাড়লোনা। ছাদে আসে মাঝে মাঝে, গাছের তলায় দাঁড়িয়ে থাকে। মাঝে মাঝে বাড়ির মধ্যেও দেখি। বাবা খবরের কাগজ পড়ছে গম্ভীর হয়ে, দাদা পেছনে দাঁড়িয়ে জিভ ভ্যাঁচাচ্ছে। আমি হেসে উঠি। বাবা জিজ্ঞেস করে হাসছি কেন, কিছু বলতে পারিনা।

তবে দাদা কোনোদিন আমার ভালো চাইলোনা। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাতের ধরণটা বদলে যেতে থাকে খালি। যেমন পরীক্ষা দিতে গেছি, দেখি পেন্সিলবক্সে একটাও পেন নেই। অথচ আমার স্পষ্ট মনে আছে আমি ঢুকিয়েছিলাম। পাশের ছেলের থেকে পেন চেয়ে পরীক্ষা দিয়েছি।

স্টেজে উঠে কবিতা বলছি কি নাটক করছি, কেউ যেন মুখ টিপে ধরার চেষ্টা করছে। বাসে উঠে ভাড়া দিতে গিয়ে দেখি দশটাকার নোটটা নেই। অথচ একটু আগেই ঢুকিয়েছিলাম।

আমার মাঝে মাঝে খারাপ লাগতো দাদার জন্য। দাদাও নিশ্চয়ই আমাদের সঙ্গে আর পাঁচটা বাচ্ছার মতোই বড় হতে চেয়েছিল। তারপর তারই চোখের সামনে তার জায়গায় আমি এসে জুটলাম। দাদা না মারা গেলে আমি যে পৃথিবীর আলো দেখতামনা এনিয়ে আমি নিঃসংশয়।

আমি হলেও হিংসে হতো। ভুত কাকে বলে আমি জানিনা। কিন্তু অভিমান তো বুঝি। আমি অনেকবার দাদাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, আমার কোনো দোষ নেই। অথবা হাতজোড় করে জানতে চেয়েছি সেকি চায়। কোনো উত্তর নেই।

এদিকে আমার ওপর দুদিকের চাপ। ডাক্তারবাবুর নির্দেশে কয়েকদিন দাদার সঙ্গে তুলনা থেমেছিলো। বাবা মাও মানুষ। ছবছরের সন্তান হারানো মুখের কথা নয়। কয়েকদিনের মধ্যে আবার চালু, দাদা হলে ঠিক অংকে একশোয় একশো পেত।

বড়ঘরের বিশাল ছবি থেকে দাদা মুচকি মুচকি হাসে।

এসব নিয়েই কলেজ পেরোনো হলো, চাকরি হলো, সম্বন্ধ করে বিয়েও হয়ে গেল। আমার বউ সোনালি বর্মন, এখন সান্যাল। বউকে বলা যায়না আমি আমার ছবছরের মৃত দাদাকে দেখতে পাই। পাগল ভেবে আমায় ফেলে রেখে পালাবে।

দুবছরের মাথায় ছেলে হলো। আমি জোর করেই দাদার নামে নাম রাখলাম। দেবদত্ত সান্যাল। বাবা তখনও বেঁচে। বাবাও খুশি হলো। সোনালিই আপত্তি করছিলো। আমি আমল দেইনি। ভালোনাম দেবদত্ত, ডাকনাম টুবাই। টুবাই যেদিন প্রথম বাড়ি এলো, বড়ঘরে দাদার ছবির সামনে নিয়ে গিয়ে দেখিয়ে আনলাম। হাতজোড় করে বললাম টুবাইকে কিছু কোরোনা দাদা। আমাদের বংশের একমাত্র ছেলে।

টুবাই বড় হতে থাকে। আমি সবসময় চোখে চোখে রাখি। ছাদে একা ছাড়িনা, সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় হাত ধরে থাকি।

টুবাই তখন বছর তিনেক। ছাদে আমার সঙ্গে বল নিয়ে খেলছে। খেলতে খেলতে বল গেল পড়ে নীচে। আমি ঝুঁকে দেখি আমগাছটার তলায় দাদা বলের ওপর পা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মুখে একগাল হাসি। আমার ভীষণ ভালো লাগলো।

দাদাই নীচ থেকে বলটা ছুঁড়ে দিল আমাদের দিকে। আমি টুবাইকে নিয়ে গিয়ে দেখলাম, ওই দেখ তোর কাকাই। টুবাই একবার কাকাই বলে হাত নাড়লো। দাদাও মিষ্টি হেসে হাত নাড়লো।

টুবাইকে ওর কাকাইএর গল্প বলি। অবশ্যই মৃত্যুর পার্টটা বাদ দিয়ে। বলি খুব ভালো ছেলে ছিল, বাবা মায়ের সব কথা শুনতো, মন দিয়ে পড়াশোনা করতো, বড় হয়ে কাকাইএর মতো হতে হবে এইসব।

ভালোই দিন চলছিলো। দাদাকে দেখি মাঝে মাঝে। টুবাইকে আদর করি। বাবা নাতি পেয়ে খুব খুশি। সোনালিও বেশ আছে।

বিপদ একদিন হঠাৎ করেই এলো। আমি অফিসে। হঠাৎ ফোন এলো টুবাই পড়ে গেছে। মাথা ফেটে গেছে। আমি পড়িমরি করে ছুটলাম বাড়ি।

দেখি পাড়ার ডাক্তার এসে ব্যান্ডেজ করে দিয়েছে। টুবাই ঘুমোচ্ছে। শুনলাম ছাদের সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পড়ে গেছে।

আমি টুবাইএর মাথার পাশে এসে বসলাম। হাত বুলিয়ে দিচ্ছি চুলে। সোনালি ঘরের এককোণে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। বাবা টুবাইএর ওইপাশে বসে আছে চুপটি করে। আমি উঠে গিয়ে একবার আমগাছটার নীচে দেখলাম, কেউ নেই। বড়ঘরে দাদার ছবির সামনে এসে দাঁড়ালাম। আমার ছবছরের মৃত দাদা স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে আছে আমার দিকে।

রাতের দিকে টুবাইএর জ্ঞান ফিরল। আমি গিয়ে একটু আদর করে জিজ্ঞেস করলাম, কি হয়েছিল রে?

টুবাই ফিসফিস করে বলে, কাকাই, কাকাই!

আমার মাথায় রক্ত চড়ে যায়। বড়ঘরে দাদার ছবিটার সামনে দাঁড়াই। হাতের কাছে একটা পাথরের ছোট এশট্রে পাই। সজোরে ছুঁড়ে মারি ছবিটার দিকে। প্রচন্ড আওয়াজ করে ছবিটা চুরচুর হয়ে ভেঙে পড়ে।

বাবার ঘুম ভেঙে গেছে, সোনালি আতঙ্কিতভাবে আমার দিকে তাকাচ্ছে।

সেইরাতেই আমি সবকথা বলি সোনালিকে। আর কোনো উপায় ছিলোনা। বাবাকেও বলি সব। যথারীতি কেউ বিশ্বাস করেনা আমার কথা। আমার মনে হলো, দাদা যেন দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে সব শুনছে আর খুব হাসছে।

পরের সপ্তাহে আবার আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো ডাক্তারের কাছে। ছোটবেলার সেই ডাক্তার মারা গেছেন। এবার নতুন ডাক্তার। আবার ওষুধ,আবার ঘুম। আবার দাদাকে দেখতে পেলাম। দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি মারছে। এবারেও ক্ষেপে গেলাম। চা খাচ্ছিলাম। হাতের গরম কাপটা ছুঁড়ে মারলাম দরজাটা লক্ষ্য করে। মেঝেতে ছড়িয়ে পড়লো কাঁচের টুকরো।

এমন বারকয়েক হওয়ার পর সোনালি টুবাইকে নিয়ে বাপের বাড়ি গিয়ে উঠলো। জানিয়ে গেল বাড়ি বিক্রি করে নতুন ফ্ল্যাট কিনতে হবে। এই অভিশপ্ত বাড়িতে সে আর টুবাইকে নিয়ে উঠবেনা। বাবা আটকানোর চেষ্টা করেছিলো। পারেনি।

এখন অনেক রাত। বাবা ঘুমোচ্ছে বড়ঘরে। দাদার ছবিটা আমি আবার বাঁধিয়ে দিয়েছি। বড়ঘরেই আছে এখনো। আজ ওষুধ খেয়েও ঘুম আসছেনা।

আমি ছাদে গিয়ে বসলাম। আজ পূর্ণিমা হবে। গোল সাদা একটা চাঁদ উঠেছে আকাশে। মেঘে ঢেকে যাচ্ছে মাঝে মাঝে, আবার একটু পর দেখা যাচ্ছে। আমগাছটার একটা ডাল এসে ছাদে লেগেছে। রাতের অন্ধকারে সবুজ পাতাগুলো কালো কালো দেখাচ্ছে। কোথাও কোনো শব্দ নেই, সব নিস্তব্ধ।

দাদাকে দেখতে পেলাম। পাঁচিলের পাশে চুপটি করে দাঁড়িয়ে। সেই লাল হাফ হাতা শার্টটা গায়ে, একটা খয়েরি হাফ প্যান্ট। জ্যোৎস্নার আলোতে দাদার ছবছরের মুখটা অনেকটা টুবাইএর মতো লাগছে। আস্তে আস্তে দাদা আমার পাশে এসে বসলো।

পূর্ণিমার আলোতে চারদিক ভেসে যাচ্ছে। অদ্ভুত মায়াবী একটা রাত। দাদা আমার একটা হাত জড়িয়ে কাঁধে মাথা রাখলো। আমি দাদার চুলের গন্ধ পাচ্ছি। কেমন একটা দুধ দুধ গন্ধ। মায়ের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।

আমি দাদাকে আলতো করে জড়িয়ে ধরলাম। ফিসফিস করে দাদার কানে কানে বললাম, তোকে ছেড়ে আমি কোত্থাও যাবোনা।।

592 views

Subscribe to Our Newsletter

  • White Facebook Icon

© 2023 Powered by Maiti Infomedia Pvt Ltd.