• Admin

গল্পঃ নীল আঁধারের চুপকথা ( অনুপ বৈরাগী)

১ |

টালা পোস্ট অফিস পেরিয়ে ব্রিজের ওপর জ্যামে আটকা পড়লো ক্রিম কালারের মারুতি জেন এস্টিলো।ঘড়িতে এখন সন্ধ্যা ছটা বেজে চুয়ান্ন মিনিট । ড্রাইভার সিটে বসে রঞ্জন। এক হাত স্টিয়ারিঙে এক হাত গিয়ারে। বাঁদিকে তাকিয়ে পাশের সিটে বসা মেয়েকে বললো " মৌ ! বলতো আমরা এখন যে ব্রীজের ওপর আছি তার তার নাম কি ?" "এটা কোন প্রশ্ন হল বাবি ! সব্বাই জানে এটা টালা ব্রীজ" মৌ কাঁধ ঝাঁকিয়ে তাচ্ছিল্যের সুরে বললো। রঞ্জন মাথা ঝাঁকিয়ে বললো " হে হে ! ওটা তো নিক নেম। সবাই জানে । কিন্তু সবাই যেটা জানে না অর্থাৎ কিনা এই ব্রীজের ভালো নাম টা কি?" সিগন্যাল গ্রিন হয়ে গেছে। পিছনের গাড়ির লাগাতার হর্ণের তাগাদায় গাড়ি চলতে শুরু করলো। মৌ এবার খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে গেল । সন্ধ্যার মুখে বাবির কাছে এরম ফাঁকা মাঠে দাঁড়িয়ে গোল খাওয়ার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলো না। রঞ্জন আরো একবার বললো " কি হে মক্ষীরানী পারলে না তো !" লেগপুল করার সময়ে রঞ্জন মৌ কে মক্ষীরানী বলে আর তুই থেকে সম্বোধন টা তুমিতে চলে আসে। মৌ নেহাত নতি স্বীকার করে বললো " বাবি ! দিস ইজ নট ফেয়ার !" পেছনের সিট থেকে উত্তর এলো " হেমন্ত সেতু" "ব্রিলিয়ান্ট" রঞ্জন বললো । "ভাইয়া ! ইউ আর জিনিয়াস ।" মৌ চোখ গোল গোল করে পেছনের সিটের দিকে তাকিয়ে বললো। পেছনের সিটের বামদিক থেকে সুতপা ছেলেকে জড়িয়ে ধরে বললো দেখলি নীল কেমন নামটা বলে দিলো। লাভ ইউ নীল। এতক্ষণ পর নীল দিদির দিকে তাকিয়ে বললো "গিভ মি এ হাগ দিভাই" সামনের সিট থেকে উঠে নীলকে আদরের আলিঙ্গন দিলো মৌ। জিটিএস টাওয়ার কে ডাইনে ফেলে এস্টিলো বি টি রোড ধরে সান্ধ্য কালীন ট্রাফিক ঠেলতে ঠেলতে চলতে লাগলো ধিমি তালে।

২ |

মৌ বাড়ি ফিরে ল্যাপটপ নিয়ে বসে গেছে প্রজেক্টের কাজে । আগামী কাল ভিজিট আছে একটা স্কুলে। সেখানে সবাই স্পেশাল চাইল্ড । তাই নিয়ে একটা রাইট আপ ড্রাফট করতে হবে একটা নিউজ পেপারের এবারের এপ্রিল ইস্যুতে। লিখতে লিখতে ভাবছিলো এখনো সমাজ কত পিছনে পড়ে আছে। এতো টেকনোলজি এগিয়েছে। তরতর করে। প্রতিদিন শয়ে শয়ে নতুন অ্যাপ নতুন গেম নতুন কতকিছু অথচ মানুষের চিন্তা ভাবনা সেই ট্রাফিক সিগন্যালে আটকে আছে। লম্বা লাইন। অফিস ফেরত জ্যামের মত। ক্রমাগত হর্ণের প্যানপ্যানানি তবুও না হচ্ছে সিগন্যাল গ্রিন না এগোচ্ছে ট্রাফিক । কারোর কি একটুও সময় নেই। আর যাইহোক এরা তো পাগল নয়। মেনটালি রিটার্ডও নয়। কিছু সোশ্যাল অ্যাডজাস্টমেন্টের সমস্যা । সে তো সবার আছে। একটা বেকার হকার ফেরিওয়ালা ভিখারী থেকে কর্পোরেট সবাই তো অ্যাডজাস্ট করছে কাউকেতো আলাদা চোখে দেখা হচ্ছে না। মানিয়ে নিতে না পারলে কত সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে প্রতি মুহূর্তে ।কই কেউ তো তাদেরকে রিটার্ড বলছে না। অথচ এইসব বাচ্চারা কি অসম্ভব স্ট্রাগল করছে নিজেদেরকে মানিয়ে নিতে নিজেদেরকে মেলে ধরতে। একবার তো ওর এক বন্ধু বলেছিল ওর সাথে ওদেরকে দেখতে যাবে। কথার ধরন এমন ছিলো মৌ বলেছিল "দেখ উর্মি ওটা কোন চিড়িয়াখানা নয় আর ওরা কোন জন্তু জানোয়ার নয়। যদি কখনও ইচ্ছে হয় ওদের সাথে মিশতে চাস একটু খেলতে চাস কিছু সময় কাটাতে চাস তাহলে আসিস। দেখতে আসিস না !" বেগতিক দেখে ঊর্মি আমতা আমতা করে বলেছিল " না মানে আমি ঠিক ওরকম বলতে চাইনি ! কিছু মনে করিস না । চলি রে " সেই যে পিছুটান দিয়েছিল আর কোনদিন এ প্রসঙ্গ তোলে নি। নীল ঘুমিয়ে গেছে অনেক্ষণ। ও বেশি রাত করে না। ডিনার করে একটু লেখা লেখি তারপর লম্বা ঘুম। আরলি টু বেড আরলি টু রাইজ। সকালে উঠে প্রানায়ম ঘড়ি ধরে আধঘন্টা । তারপর হালকা টিফিন। তারপর ডেলি নিউজ পেপার। তারপর আবার লেখা নিয়ে বসা। সুতপা বিছানায় বসে চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে রঞ্জন কে বললো আজকের প্রোগ্রাম টা কেমন হলো বলো ! ফেসবুকে চোখ রেখে উত্তর দিল যা ভেবেছিলাম তার থেকে অনেক বেশি হয়েছে। তবে কিছুটা আন্দাজ আমার ছিলো। নীলের লেখার হাত যে বেশ পেকেছে ওর পেজ ফলোয়ার দেখলে বেশ বোঝা যায়। শোনো তোমাকে একটা লেখা পড়াই। গল্পটা জেকব বার্নেটের। যখন জেকবকে স্কুলে পাঠানো হলো দুএকদিনের মধ্যেই তার বাবা মাকে স্কুলে ডেকে পাঠানো হলো। প্রিন্সিপাল বললেন " আমরা আপনার ছেলেকে ষ্কুলে রাখতে পারছি না। ও একেবারেই ক্লাস ফলো করছে না। সারাক্ষণ খাতায় হাবিজাবি লাইন টানছে। ফিগার আঁকছে। কিছু বললেই প্রচন্ড রেগে গিয়ে ভায়োলেন্ট বিহেভ করছে। আমাদের মনে হয় জেকবকে কোন ডাক্তার দেখানো উচিত।তারপর ওরা ডাক্তার কে দেখান এবং ওরা জানলেন জেকবের অটিজম আছে । জেকবকে সাধারন টাস্ক যেমন জুতোর ফিতে বাঁধা , ড্রেস পরা এগুলো শেখাতে হবে। এটা একধরনের অ্যাডজাস্টমেন্ট ডিসওর্ডার। সোশ্যাল স্কিল ডেভেলপ করতে হবে। ওর সাথে সময় কাটাতে হবে। দেখতে হবে কোন জিনিস টা পছন্দ করে। কোনটা অপছন্দ। আর খুঁজে বের করতে হবে ওর স্পেশাল ট্যালেন্ট । মজার ব্যাপার হলো ওর মা বাবা আবিষ্কার করলেন জেকবের স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত প্রখর। মাত্র দু সপ্তাহের মধ্যে হাই স্কুলের অঙ্ক শিখে গেছে । এগারো বছর বয়সে ওর মা এক মিনিট সাতচল্লিশ সেকেন্ডের একটা ভিডিও ইউ টিউবে ডাউনলোড করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে সাধারণ একটা লাল টি শার্ট পরে ফিনফিনে একটা ছেলে মাথায় একটা টুপি পরে কিচেন টেবিলে বসে স্যান্ডউইচ খাচ্ছে আর পাঁচটা সাধারণ ছেলের মত তারপর হঠাৎই সে বলতে শুরু করলো কেন আইনস্টাইনের থিয়োরি তাকে আদৌ কনভিন্স করতে পারে নি !" এটুকু বলার পর রঞ্জন সুতপার দিকে তাকালো । সুতপার চুল বাঁধা শেষ। পাশে বসে একমনে চোখ বন্ধ করে শুনছিল জেকবের কাহিনী । হঠাত থেমে যাওয়ায় বললো " থামলে কেন ? এটুকুই!  তারপর কি হলো " 'তারপর... 'রঞ্জন আবার শুরু করলো "তারপর ইউ টিউবের এই ভিডিও টি নিউজার্সির প্রিন্সটন ইউনিবারসিটির অধ্যাপক স্কট ট্রিমেইনির নজরে আসে। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো নিউজার্সির এই ইনস্টিটিউট অফ অ্যাডভান্স স্টাডিতে আইনস্টাইন, রবার্ট ওপেনহেইমার , কার্ট গুডেল প্রমুখ পদার্থবিদদের নিয়ে গবেষণা করা হয়। অধ্যাপক স্কট বলেছেন " পদার্থবিদ্যায় আপনার সন্তানের আগ্রহ এবং এইটুকু বয়সে ওর জ্ঞান দেখে আমি অভিভূত। যে থিয়োরির ওপর জেকব কাজ করছে সেটা অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের জটিল সমস্যা  গুলোর মধ্যে অন্যতম। যে কেউ এর সমাধান করলে সে নোবেল পাওয়ার দাবিদার হতে পারে।" এটুকু বলে মোবাইল ডেটা অফ করে সুতপার দিকে পাশ ফিরলো রঞ্জন । সুতপা পিঠে বালিশে হেলান দিয়ে বসে আছে । আজ একটু গুমোট লাগছে। একদিন আগে হালকা মেঘ আর দুএক ফোটা বৃষ্টি হয়েছে। আজ ভ্যাবসা ওয়েদার। এসিটা স্লিপ মোডে দিয়ে সুতপা বললো " কি সুন্দর বলো ! অথচ তথাকথিত ইঁদুর দৌড়ে এরা নেই। এদের তথাকথিত ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হবার তাড়া নেই। এরাই তথাকথিত সমাজের থেকে ব্রাত্য। এরা সাধারণ নয়। এরা অ্যাবনরমাল। আচ্ছা রঞ্জন অ্যাবনরমালের বাংলা অসাধারণ নয় কেন ? এদের আই কিউ তোমার আমার মত সাধারণ মানুষের থেকে অনেক অনেক বেশি এই সত্যিটাকে মেনে নিতেই কি সভ্য সমাজের এই আড়াল ? মৌ এর জন্য আমার গর্ব হয় জানো। ওইটুকু একটা মেয়ে পাগলের মত দৌড়চ্ছে এদের লড়াইয়ে থাকবে বলে। অথচ দেখো ওর বন্ধুরা কলেজের বাইরে আড্ডা ক্যাফে মল সিনেমাহল নন্দন কলেজস্ট্রীট চত্বরে পড়ে আছে। " নীলের বই রিলিজের ব্যাপারটা সব ফাইনাল হয়ে গেছে তো !" খানিকটা প্রসঙ্গে মোড় ঘোরাতে রঞ্জন বললো " হ্যাঁ ! তেইশে কপি গুলো এসে যাবে। হল বুক কনফার্ম হয়ে গেছে। জীবনানন্দ সভাঘর। ২ রা এপ্রিল । নীল বলেছে কাউকে পারশোনালি বলবে না। পেজে ওপেন ইনভিটেশান দেবে। বাকি মৌ ওর সোসাইটি থেকে কিছু বাচ্চাদের আনবে সাথে তাদের মা বাবা যদি কেউ আসে। ব্যস এটুকু " একটা লম্বা হাই তুলে  রঞ্জন বললো " অল সেট তাহলে। নো চিন্তা । তুমি আর মৌ আছ বলেই বাপ বেটা একটু নিশ্চিন্তে সুখনিদ্রা দিতে পারি। চলো শুভ রাত্রি! "

৩ |

আজ বৃহস্পতিবার । ২ রা এপ্রিল । গাড়ি আনতে চেয়েছিলো রঞ্জন কিন্তু নীল শেষ মুহূর্তে ব্যাগড়া দিলো। যার কোন বিশেষ কারণ নেই। অনেক বলে কয়ে শ্যামবাজার মেট্রো পর্যন্ত রাজুদা ছেড়ে দিয়ে চলে গেছে। রাজুদা রঞ্জনদের পার্টটাইম ড্রাইভার । তাই রবীন্দ্রসদন মেট্রো হয়ে নন্দন চত্বর এবং আজকের গন্তব্য জীবনানন্দ সভাঘর । অনেকক্ষণ গুম হয়ে আছে নীল। ঘটনার সূত্রপাত আজ সকালে । এই দিনেই মামাবাড়ির দাদু মানে সুতপার বাবার প্রয়াণদিবস। বাবার ছবিতে চন্দনের টিপ দিয়ে যেই ধূপ জ্বেলেছে ওমনি বিপত্তি। নীলের মেজাজ একেবারে সপ্তমে। বাবার মৃত্যু বার্ষিকী আর ছেলের বইপ্রকাশ । আনন্দ আর দুঃখের যুগপত যুযুধানে সুতপার খেয়াল ছিলো না কোন রকম ধূপ ধূনোর গন্ধ নীলের একেবারেই না পসন্দ। ব্যস সেই থেকে বাবু গোঁমড়া মুখো হয়ে আছে। সুতপা কতো করে বলেছে " নীল ! সোনা আমার ভুল হয়ে গেছে।" এরকম হয়েছিলো সেদিন স্টার থিয়েটারে অতনুদার আর্ট এক্জিবিশানে গিয়ে । পরিচিত অপরিচিত নির্বিশেষে নীলের সবাইকে হাগ করার ওয়েলকাম গ্রীটটা সবাই নিতে পারেন না। ব্যস একজন তো বেজায় চটেছেন। বলেছেন একী ! চিনি না জানি না " গিভ মি আ হাগ!" মামার বাড়ির আবদার নাকি। ব্যস। সেই যে নীলাকাশে আষাঢ়ে মেঘ এলো সেটা সরেছিলো টালা ব্রীজের জ্যামে রঞ্জনের সেই প্রশ্নে। "টালা ব্রিজের ভালো নাম কি" জীবনানন্দ সভাঘরে আগেই পৌঁছে গেছে মৌ। বাচ্চা গুলোকে দেখে নীলের মুখে রামধনুর সাতরঙ এক মূহুর্তে এধার থেকে ওধার লেপে দিলো। সবাইকে জড়িয়ে ধরে আদর করলো নীল। মোট সাতজন এসেছে। সঙ্গে বেশির ভাগ জনের মা। দুজনের মা বাবা দুজনেই এসেছেন। এসেছেন নীলের ড্রয়িং টিচার অতনু স্যান্যাল। ডান্স টিচার। কিছু পত্র পত্রিকার সম্পাদক । কয়েকজন চিত্রসাংবাদিক। হলের বাকি সিট প্রায় ভর্তি। এদের বেশিরভাগই স্কুল পড়ুয়া তাদের অভিবাবক এবং কলেজ পড়ুয়া । বলাবাহুল্য এরা সবাই নীলের ফেসবুক ফ্রেন্ড । সবাই প্রচন্ড খুশি। শুধু নীলের সাথে একবার কথা আর একটা সেলফি তোলার জন্যে । বই অনেকগুলো প্রি বুকিং হয়ে গেছে। তবে ফেসবুকে বেশিরভাগ জানিয়েছে আজ সইসহ নীলের থেকে সংগ্রহ করবে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে মৌ। স্কাই ব্লু সিফন শাড়ি পরেছে আজ। ফুটফুটে মৌ বাচ্চাদের হাতদিয়ে ব্যাচ আর উত্তরীয় দিয়ে বরণ করে নিচ্ছে মঞ্চে উপস্থিত সম্মানীয় অতিথিদের। প্রথিতযশা সাহিত্যক  সমাজকর্মীদের। সমস্ত আয়োজন সমস্ত দৃষ্টিকোন সমস্ত উৎসাহ এই সব গণ্যমান্য অতিথি নয় আনকোরা এক কলমকারের আত্মপ্রকাশ বইয়ের নেপথ্যে থাকা বছর ষোলোর ডেনিম জিন্স আর নেভি ব্লু টি শার্টের ফিনফিনে কিশোরটার দিকে তাকিয়ে । কখন মাইক্রোফোনের সামনে আসবে নীল।

৪|

"আজ অন্য রঙের যে পোশাক সেগুলো সভ্য সমাজ।তার মাঝে যে কটা নীল রঙের সেগুলো আপনাদের সভ্যসমাজে তথাকথিত অন্ধকার ।" নীল বলতে শুরু করলো। এতক্ষণে খেয়াল হল হলের স্পেশাল চাইল্ড আর তার পরিবারের লোকজন দের পোশাকের রঙ নীল। " আপনারা অনেকেই জানেন না এই অন্ধকারে থাকা মানুষদের লড়াইয়ের ইতিহাসে আজ বিশেষ দিন। ২ রা এপ্রিল । বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। ওয়ার্ল্ড অটিজম অ্যাওয়ারনেস ডে। মজার ব্যাপার হচ্ছে এটা একটা স্পেকট্রাম অফ ডিসওর্ডার । নিজেদেরকে সমাজে মানিয়ে নেওয়ার লড়াই। যে লড়াই আপনারা কম বেশি নিজেরাও করেন। সে দিক দিয়ে দেখলে আমরা কম বেশি সবাই অটিস্টিক। হাস্যকর হলেও কথাটা অনেকটা সেরকম । শুধু মাত্রাটা কারোর বেশি কারোর কম।" এই আনন্দ ঘন পরিবেশ হঠাৎই বেশ থমথমে । একটু ছটফটে বাচ্চার মা টা হঠাৎই মেজাজ হারিয়ে দমাদম কয়েক ঘা বসিয়ে দিয়েছিল । কই জানতে চায়নি তো সমস্যা টা কোথায়। বারবার ফেলে করছে বলে পিকলুর বাবা স্কুল ছাড়িয়ে দোকানে বসিয়ে দিয়েছিল। কই একবার তো তলব করেনি ঠিক সমস্যা টা কি ! অঙ্ক বারবার ভুল করতো তিন্নি অনেক দেখে তিন্নির মা বুঝেছিলো চার আর আটের মধ্যে চিনতে সমস্যা । এখন দিব্যি পারে । "আমি আজ একজন মানুষের গল্প শোনাব স্কুলে যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই যার হাতে একটা চিঠি ধরিয়ে প্রিন্সিপাল বলেছিলেন এটা তোমার মাকে দেবে। তারপর স্কুল থেকে ফিরে সে তার মা কে চিঠিটা দেয়। একঝলক দেখে তার মা জোরে জোরে চিঠিটা পড়তে থাকে। উনি বলেছিলেন এখানে লেখা আছে আপনার ছেলে খুবই মেধাবি। ওকে পড়ানোর মতো শিক্ষক আমাদের স্কুলে নেই। একে আপনিই পড়ানোর ব্যবস্থা করুন। ছেলেটি তো বেজায় খুশি। স্কুলে যেতে হবে না।সারাক্ষণ বাড়িতে প্রিয় খেলনা নিয়ে সময় কাটাতে পারবে এবং মায়ের কাছে থাকতে পারবে। একে একে পড়া শেষ করলো। আবিষ্কার করলো যুগান্তরকারী অনেক কিছুই। তার নামে হাজারের ওপর পেটেন্ট আছে। তার নিজের নামে হাজারটার ওপর জিনিস আছে। এই ইহজগতেই। একদিন সেল্ফ থেকে বাদামী হয়ে যাওয়া সেই প্রিন্সিপালের চিঠিটা ছেলেটির হাতে আসে। সে তখন প্রখ্যাত একজন মানুষ। তাতে লেখা ছিল। " আপনার ছেলেটি মানসিক প্রতিবন্ধী । একে দিয়ে পড়াশুনো হবে না " সেই বিখ্যাত লোকটি বালবের আবিষ্কর্তা টমাস আলভা এডিসন " অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা চারিদিকে। বাকরুদ্ধ নিষ্পলক। মূর্তির মতন অচলাবস্থা। মোহমুগ্ধ । " এই সব নীল আঁধারের সাঁঝ এভাবেই নামে সারা পৃথিবীতে। তারপর ঘন হয়। কোথাও এক ফালি কোথাও একথালা চাঁদ নেমে আসে পিপুলের ডালে। কারোর বাঁশবাগানে কাজলা দিদি চাঁদ পাড়বে বলে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ায় শহরের অলিগলি। তবুও কোথাও জোৎস্না আসে কোথাও আরও গাঢ় হয় আঁধার ।নীল ,আরো নীল ,গাঢ় নীল আঁধারের চুপকথা" বইয়ের শেষ পাতা থেকে লাইন কটা পড়ে মুখ তুললো নীল। বাইরের আকাশ তখন কেমন বোঝা যাচ্ছে না। তবে জীবনানন্দ সভাঘরে নীল আঁধার ছড়িয়ে গেছে ঘরময়...

......................... সমাপ্ত.......................... ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা সহ অনুপ বৈরাগী Belgharia


39 views0 comments

Subscribe to Our Newsletter

  • White Facebook Icon

© 2023 Powered by Maiti Infomedia Pvt Ltd.