গল্প: "পটলদার তক্তপোশ" (সাধন চন্দ্র সৎপথী)

টিনের চালে ফট্ফট্ শব্দে ঘুম ভেঙে গেল তনুর ।  চোখ বন্ধ রেখেই  বোঝার চেষ্টা করল -শব্দটা কিসের ? এখনও তো ভোর হয়নি মনে হচ্ছে । তাই এখন কোনো পাখির চালে বসার কথা নয় । অবশ্য রাতচোরা পাখিরা বিশ্রাম করার জন্য মাঝে মাঝে যে চালে বসে না.--এমন নয় ; তবে তাতে বিশেষ একটা শব্দ হয় না । মোরগ বা কোনো বড়ো পাখি টিনের চালে হাঁটাহাঁটি করলে এই রকম শব্দ হয় ।            এবার  খোলা জানালার দিকে তাকিয়ে তনু দেখল ---অনুমান ঠিকই , ভোরের আলো এখনও ফুটে উঠেনি---অন্ধকারই আছে । তাহলে শব্দটা কী বৃষ্টি পড়ার ? তনুর ভাবনার উত্তর দেবার জন্যই যেন টিনের চালে ঝমঝম্  শব্দ উঠল। তার মানে --বৃষ্টি পড়ছে ! ঝমঝম্ শব্দটা হঠাৎ একবার থামল ---আবার সঙ্গে সঙ্গেই দ্বিগুণ জোরে শুরু হল ।  খোলা জানালা দিয়ে গুঁড়িগুঁড়ি জল উড়ে এসে ঘরে ঢুকছে। ঠাণ্ডা বাতাসও আসছে । তনু এবার পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হল --বৃষ্টিই পড়ছে ।    আনন্দে তনুর মন নেচে উঠল । ক'দিন ধরেই বৃষ্টির জন্য অধীর হয়ে উঠেছিল সবাই । চাতকের মতো বারবার তাকাচ্ছিল আকাশের দিকে। লোকের কথায়.হতাশা ঝরে পড়ছিল --" এ বছর ভালো বৃষ্টি বোধহয় হবে না ; আষাঢ়ের  প্রথম সপ্তাহটাও পেরিয়ে গেল ---অথচ মেঘের দেখা নেই ।.আকাশ দেখে মনে --আষাঢ় নয় , বৈশাখ - জ্যৈষ্ঠ মাস চলছে । এরকম মেঘ শূন্য.আকাশ এই সময়ে দেখিনি কোনো বছর । বৃষ্টি না হলে কী যে হবে ?" বৃষ্টির কামনায় অনেক গাঁয়েই নাম-সংকীর্তন শুরু হয়েছিল । "ভোগ উৎসর্গ করার সময় বৃষ্টি হবেই "---এমন অভ্রান্ত বিশ্বাসও ভ্রান্তিতে পরিণত হয়েছিল । তনুও হতাশ হয়ে পড়ছিল । এই সময় বৃষ্টিটা একান্ত দরকার যে তাঁরও । বৃষ্টি না হলে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে । পরে বৃষ্টি হলেও সেই ক্ষতি আর পূরণ হবে না । আর হতাশা থেকেই ধারণা দৃঢ় হচ্ছিল --" এবছর ভালো বৃষ্টি হবে না । "   সবার ধারণাকে মিথ্যা প্রমান করতেই যেন আজ বৃষ্টি এল ।.টিনের চালের উপর একটানা ঝমঝম শব্দই বলে দিচ্ছে --মুষলধারায় বৃষ্টি হচ্ছে ।         তনু আর শুয়ে থাকতে পারল না --জানালার কাছে এসে দাঁড়াল । পাল্লাটা আড়কপাটি করে বাইরের দিয়ে তাকিয়ে রইল ।          আকাশ মেঘে ঢাকা , তার উপর বৃষ্টি পড়ছে বলেই ভোরের ফিকে অন্ধকার আবার গাঢ় হয়ে উঠেছে । মনে হচ্ছে --সকাল হতে এখনও অনেক দেরি ।  টিনের চালে , গাছের পাতায় একটানা ঝমঝম শব্দ বেজেই চলেছে । ঠাণ্ডা বাতাস তনুর চোখে-মুখে যেন স্নেহের স্পর্শ বুলিয়ে দিচ্ছে । চোখে আবার ঘুম নেমে আসছে ; তবু তনু জোর করে চোখ মেলে তাকিয়ে রইল। বৃষ্টির ফোঁটাগুলিকে দেখার চেষ্টা করল ; কিন্তু অন্ধকার থাকায় সেই চেষ্টা সফল হল না ।         চোখ ফিরিয়ে ঘরের ভিতরের দিকে তাকাল । কিন্তু সেখানেও ঘন অন্ধকার । তনু জানে ঐ অন্ধকারেই ডুবে একটা চওড়া তক্তপোশে শুয়ে ঘুমিয়ে আছে তাঁর স্ত্রী টুনি এবং পাঁচ বছরের ছেলে টুনটুন । পাশের ঘরে মা-বাবাও গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন । তনুর মনে হল --সে যেন এই সংসারের প্রহরী ---তাই সকলে নিশ্চিন্তে ঘুমালেও সে জেগে আছে ।           হঠাৎ আলোর ঝিলিকে বাইরের অন্ধকার দূর হয়ে গেল পলকের জন্য । সেই ঝিলিকের কিছুটা অংশ আধখোলা জানালা দিয়ে ঘরে ঢুকে টুনি ও টুনটুনের মুখটাকে আলোকিত করে তুলল । পলকের মধ্যেই তনু দেখল --কী গভীর নিশ্চিন্ত ভাব দু'জনের মুখে !      গাঢ় অন্ধকার আবার ছুটে এসে ঢেকে ফেলল মুখ দুটিকে ।  সঙ্গে সঙ্গে কানফাটানো তীব্র আওয়াজ টিনের চালকে কাঁপিয়ে দিল । আবার বৃষ্টি নামল মুষলধারায় । আর মাঝে-মাঝেই বাজ পড়তে লাগল । জানালার কাছ থেকে সরে এসে তনু নিজের বিছানায় বসল । বিছানা বলতে --সরু তক্তপোশের উপর একটা কাঁথা পাতা ---আর একটা বালিশ ।             তনুর মনে পড়ল --এই সরু তক্তপোশটা কিনেছিল পটলদার কাছ থেকে । পটলদার ছিল চায়ের দোকান । খদ্দেরদের বসার জন্য বাঁশের বেঞ্চের বদলে সরু তক্তপোশ করিয়ে ছিল কয়েকটা । দু'সারিতে বসতে পারত খদ্দেররা ।                      তখন আর পাঁচজনের মতো তনুও সকাল-সন্ধ্যায় আড্ডা দিত পটলদার দোকানে । পটলদার তখন চলছিল ভালোই । কিন্তু মাস ছয়ের মধ্যেই গাঁয়ে আরও দুটো চা দোকান হয়েছিল । পটলদার খাতার বাকি শোধ না করেই অনেক খদ্দের সেখানে ভিড় জমিয়েছিল ।      আরও বছর খানেক টিমটিম করে চলার পর পটলদার দোকানটা উঠে যেতে বাধ্য হয়েছিল । মালপত্র যা ছিল কমদামে বা জলের দরে বিক্রি করে দিয়ে পটলদাও নিরুদ্দিষ্টের খাতায় নাম লিখিয়েছিল ।              অনেক দিন পরে পটলদার মুখটা মনে পড়তেই  তনুর মন খারাপ হয়ে গেল ।.পটলদা নিরুদ্দিষ্ট হলেও  পটলদার তক্কপোশটা আজও আছে। বেশ যত্ন করে তক্তপোশটা করিয়েছিল পটলদা ---তাই এখনও ভালো ভাবেই টিঁকে আছে । এই তক্তপোশটার জন্যই নিজের ফেলে আসা সেই দিনগুলির কথা ভুলে যায়নি তনু । আর মনে পড়ে পটলদার কথা ।. বৃষ্টির ঝমঝম শব্দের মধ্যে তনু যেন শুনতে পেল পটলদার বহুবার বলা কথা ---"বুঝলি তনু , কাজই হল ধর্ম ---ভালো ভাবে কাজ করে গেলে ভালো ফল অবশ্যই পাবি । মন দিয়ে কাজ করলে কোনো কুচিন্তা মাথায় আসবে না।  আর তোর উন্নতিও কেউ আটকাতে পারবে না । "         তনুর ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল ; মনে মনে বলল --"পটলদা , তুমি তো কাজের মধ্যেই ডুবে ছিলে ---সারাদিন তোমার ধ্যান-জ্ঞান ছিল ঐ চা-দোকান । আর সৎ ভাবেই তো চলছিলে  । তাহলে পাততাড়ি গুটিয়ে তোমাকে চলে যেতে হল কেন ? আসলে কী জানো ,পটলদা , নিজে সৎ থাকলেই উন্নতি করা যায় না ; তার জন্য চাই বুদ্ধি ---যেটা তোমার কমই ছিল ।

   তনু জানে -বুদ্ধি কম বা বেশি যা-ই থাক না কেন একসময় পটলদাই ছিল তাঁর আদর্শ., পরামর্শদাতা । সৎ ভাবে কাজে ডুবে থাকার কথা পটলদার কাছে দু'বেলাই শুনতে হতো। পটলদা বলত --"এবার একটা কাজ-কর্ম জোগাড় করতেই হবে তোকে ---বড়ো হয়েছিস , বিয়ে-টিয়ে করে সংসারি হতে হবে ।"

ঘরে এসেও পটলদার কথাই যেন শুনতে পেয়েছিল । বাবাকে বলা মায়ের চাপা স্বরের কথা কানে এসেছিল  --"ছেলে বড়ো হয়েছে --এবার বিয়ের কথা ভাবো । নাহলে ঐ অমুকের ছেলের মতো নিজের ব্যবস্থা নিজেই করে নেবে । তখন আঙুল কামড়ানো ছাড়া কিছুই করার থাকবে না ।" তনুর মনের মধ্যে ফাগুনের দখিনা বাতাস বইতে শুরু করেছিল । পরিচিত -অপরিচিত কোনো না কোনো যুবতীর মুখ দিন-রাত্রির স্বপ্নে ঘোরাঘুরি করছিল । আত্মীয় বা পরিচিতদের মাধ্যমে দু'-একটা খোঁজ-খবর আসছিলও।.কিন্তু সকলের মুখে একটাই প্রশ্ন ছিল --" ছেলে কী কাজ করে ? রোজগার কেমন করে ? " আর এই প্রশ্নেই মুখের চেহারাটা পাল্টে যেত মা-বাবার ---মাথা নীচু করে ঝিম মেরে বসে থাকত । তনুর মনে শীতল উত্তুরে হাওয়া বইতে শুরু করত । তারপর লোক-জন চলে গেলেই মায়ের রাগ ফেটে পড়ত গালি-গালাজ হয়ে । নেশা করে রাতে ঘরে এসে বাবা অকথা -কুকথা বলে গায়ের ঝাল মেটাত ; বেকার , নিষ্কর্মা ছেলেকে ঘর ছেড়ে চলে যেতে বলত । গালি-গালাজ , বকাবকি একসময় আক্ষেপে পরিণত হতো ---তারপর নাক ডাকার শব্দ শোনা যেত । তনু মনে মনে প্রতিজ্ঞা করত --কাল সকালেই যে কোনো একটা কাজে লেগে যেতেই হবে । এই হেনস্তা আর সহ্য হয় না ।         সারারাত মাথার মধ্যে ভাবনা ঘুরে বেড়াত ---কী কাজ করা যায় ? কাজ তো অনেক কিছুই করা যায় । কিন্তু পছন্দ মতো  কাজ কই ? কারো বাড়িতে জন-মজুর খাটার ইচ্ছা নেই --কেননা ওতে কোনোদিনই উন্নতির সম্ভাবনা নেই ।     কাজের ভাবনার মাঝেই ভেসে উঠত সুন্দর কোনো মুখের ছবি । তবে এটাও বুঝতে পেরেছিল যে --ভালো কাজ না পেলে সুন্দর কোনো মুখ তাঁর ঘরে আসবে না । ভালো রোজগার আর সুন্দর মুখ --যেন গভীর সম্পর্কে যুক্ত । একটা না পেলে অন্যটা পাওয়া যাবে না । ভাবতে ভাবতে কখন যে চোখে ঘুম এসে যেত ---বুঝতেই পারত না । যখন ঘুম ভাঙত. তখন বেলা অনেক ; মায়ের কথা মতো --"দশটা বাজে । " শুরু হতো মায়ের বকবকানি --" এতক্ষণে ঘুম ভাঙল তোর ! বুড়ো মানুষটা কোন্ ভোরে উঠে কাজে বেরিয়েছে । তোর মনে কী দয়া-মায়া নাই ? কাজ-কর্ম করে বুডো বাপের একটু সুরাহা করতে পারিস না ?  "

    বিরক্তিতে মনটা নিম-তিতা হয়ে উঠত । চোখে-মুখে জল দিয়ে , জামাটা কোনো রকমে গলিয়ে চলে আসত পটলদার চা-দোকানে । এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা হাতে ধরিয়ে দিয়ে পটলদা বলত --"অনেক টাকা বাকি হয়েছে রে , তনু ----টাকা না দিলে আর চা খাওয়াতে পারব না । " মিষ্টি চা - টা সঙ্গে সঙ্গে তিতা হয়ে যেত ।.তবু হাসি মুখেই বলত --" টাকার জন্য ভেবো না পটলদা , এই একটা কাজ পেলাম বলে । কিছু দিনের মধ্যেই  তোমার চায়ের দাম মিটিয়ে দেবো । তুমি হিসাবটা ঠিক ঠিক রেখে যাও .।" মুখ বিকৃত করে পটলদা বলত --"এমন ভাবে কথা বলছিস যেন দু 'দিন পরেই সরকারি চাকরি একটা পেয়ে যাবি ! বিদ্যে তো ঐ এইট পাশ ---কী কাজ পাবি তুই ? বড়োজোর জন-মজুর , মানে লেবারের কাজ পেতে পারিস. ।"      রাগে মাথা জ্বলে উঠলেও চুপ করে থাকতে হতো ---কারণ অপ্রিয় হলেও পটলদা মিথ্যা কথা বলেনি । তবে-------   তনুর মুখে হাসি ফুটে উঠল আবার ---দোকানটা উঠে যেতে পটলদার ধারটা আর পুরোপুরি শোধ করতে হয় নি । বরং মাঝখান থেকে একটা লাভ হয়েছিল ---খুব কম দামে এই তক্তপোশটা কিনে নিয়েছিল ।     মনে মনে উল্লাসও হয়েছিল ---পটলদা আর কোনোদিন চায়ের বাকি ধারের জন্য তাগাদা দিতে পারবে না ।  তখন অবশ্য ইচ্ছা করলে পুরো ধারটাই শোধ করে দিতে পারত ----কারণ তখন রোজগার করা শুরু করেছিল । খুব বেশি নাহলেও হাতে টাকা আসছিল ।          তবে পটলদার দোকানটা উঠে যাওয়ায় একেবারেই যে দুঃখ পায়নি , তা নয় । কারণ তখনও অপরের  দুঃখে মনটা মাঝে-মাঝে কেঁদে উঠত। তবে একটা কথা ভেবে সান্ত্বনাও পেয়েছিল --পটলদার টাকা সে একাই ডোবায়নি , বেশির ভাগ খদ্দেরই ডুবিয়েছিল ।

                           বৃষ্টি পড়ার শব্দটা হঠাৎ কমতে শুরু করল ।ঝমঝম শব্দ আবার ফটফট শব্দে পরিণত হল ।  একসময় সেই শব্দও থেমে গেল । কিন্তু বাতাসের বেগ আগের তুলনায় বাড়ছে আবার । আধখোলা জানালা দিয়ে ভিজা বাতাস ঘরে ঢুকছে । তনু উঠে জানালার কাছে গেল  । পাল্লাটা পুরোপুরি বন্ধ করতে গিয়েও কী যেন ভেবে থেমে গেল ।             দেখল --বাইরের অন্ধকার কেটে যাচ্ছে---ভোরের আলো ফুটে উঠছে ; মেঘ সরে যাচ্ছে ।.গাছের পাতায় জমে থাকা জল ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে পড়ার শব্দ কানে আসছে । বাসার পাখিরা কিচির-মিচির শব্দ তুলে বাকিদের যেন জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করছে । দূর থেকে ভেসে আসছে মোরগের ডাক ।    তনু ভাবল -আর একটু পরিষ্কার আলো ফুটলেই বেরিয়ে পডতে হবে ; যে রকম বৃষ্টি হল পুকুরগুলো দেখে আসা দরকার । বৃষ্টির জল ঢল গড়িয়ে পুকুরে নামবে , আর প্রথম বর্ষার ঘোলা জল পেয়েই মাছ উঠতে শুরু করবে উজানে । এবার এখনও 'নেট ' দেওয়া হয়নি ---শোল , মাগুর ,তেলেপিয়ার সঙ্গে রুই-কাতলাও উঠে যাবে । যেমন হয়েছিল কয়েক বছর আগের বর্ষায় । সারারাত ধরে মুষলধারায় বৃষ্টি হয়েছিল । খুব সকালেই গিয়ে দেখেছিল --পুকুর জলে ভরে গেছে ; সব মাছ মাঠের জলে ছুটে বেড়াচ্ছে । ছেলে -ছোকরা-বুড়ো মহানন্দে মাছ ধরছে । সেবার অনেক টাকা লোকসান হতে চলেছিল । লোকসান পূরণ করতে অনেক ফন্দি-ফিকির করতে হয়েছিল।         মনটা পুকুরে পড়ে থাকলেও তনু আবার তক্তপোশে বসল । একটা বিড়ি খাওয়ার খুব ইচ্ছা হল । কিন্তু ঘরে বিড়ি খেলে টুনি খুব বিরক্ত হয় ---তাই ইচ্ছাটাকে দমন করতে হল ।   বিড়ির নেশাটা ধরিয়েছিল সুনীলই । শুধু বিড়ি নয় , আরও অনেক নেশাই ধরানোর চেষ্টা করেছিল । এই তক্তপোশটা তখন পটলদার দোকানেই থাকত । তক্তপোশে বসে অলস ভাবে সময় কাটত । সুনীলের সঙ্গে প্রথম দেখা হয়েছিল পটলদার চা-দোকানে , এই তক্তপোশে বসেই ।            সেদিনও চায়ে চুমুক দিয়ে ধার শোধের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিল পটলদাকে  ;  বিরক্তিতে গজগজ করছিল পটলদা । ঠিক তখনই দোকানের সামনের রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছিল একটা মোটর বাইক । এদিকে তখনও বাইকের তেমন চল হয়নি ; তাই দোকানে বসে থাকা সকলেই খুব অবাক হয়েছিল । আরও বেশি অবাক হয়েছিল বাইকে বসে থাকা ছোকরাটিকে দেখে । ছোকরার পরণে প্যাণ্ট-শার্ট , চোখে কালো চশমা -----ঠিক যেন সিনেমার হিরো ! বাইক থেকে নেমে ছোকরাটি সোজা চলে এসেছিল তক্তপোশগুলির কাছে। দু'-একজন উঠে দাঁড়িয়ে জায়গা ছেড়েও দিয়েছিল ; কিন্তু সেখানে না বসে তনুর গা ঘেঁষেই বসে পড়েছিল । একটু অস্বস্তি বোধ করলেও তনু কিন্তু উঠে যায়নি ।       তনুর মুখের দিকে তাকিয়ে সহজ ভাবে বলেছিল --"আমার নাম সুনীল। তোমার নাম ?" নির্লিপ্ত ভাবে নিজের নাম বলেছিল -"-তনু"    পটলদার দিকে তাকিয়ে সুনীল বলেছিল --দাদা , দুটো স্পেশাল চা .." তনু মনে মনে অবাক হয়েছিল --'দুটো কেন !একাই তো আছে দেখছি --তাহলে  ..' তনুর মনের কথা সুনীল যেন বুঝতে পেরেছিল ; বলেছিল -"তুমি চা খাবে তো ? আমার আর তোমার জন্য বললাম । " তনু আরও বেশি অবাক --"এমনি এমনি চা খাওয়াতে চাইছে কেন ? এখানে তো কেউ কোনোদিন নিজের টাকা খরচ করে অপরকে চা খাওয়ায়নি ! " অন্য খদ্দেরদের মতো পটলদাও বিস্মিত হয়েছিল  ; কিন্তু কোনো কথা না বলে দু'কাপ  চা দিয়েছিল ।   চায়ে চুমুক দিয়ে সুনীল বলেছিল --" আমি মাছের ব্যবসা করি ---এখানেও কয়েকটা পুকুর লিজে নিতে চাইছি । মাছ চাষ করে বিক্রি করব । কিন্তু একা তো পারব না , তাই এখানেরই একজনকে চাই । সৎ এবং পরিশ্রমী হলেই চলবে । তোমাকে দেখে আমার পছন্দ হয়েছে । করবে কাজ আমার সঙ্গে ? " সুনীলকে আর বলতে দেয়নি তনু । পটলদাকে অবাক করে সুনীলের বাইকের পিছনে চেপে বসেছিল ।                 সেই প্রথম শুরু । তারপর সুনীলের সঙ্গে বাইকে চেপে কত জায়গায় যে চক্কর দিয়েছিল , তার ইয়াত্তা নেই ।   দিনকয়েক একসঙ্গে ঘোরা-ঘুরি করার পরই তনু বুঝতে পেরেছিল ---সুনীল বেশ টাকাওয়ালা ঘরের ছেলে।টাকা রোজগার করতে যেমন জানে , তেমনই খরচ করতেও দ্বিধা করে না । পটলদার চা-দোকান থেকে শুরু করে যেখানে যা খরচ হতো , সব বহন করত সুনীলই । এমনকি , এই তক্তপোশে বসে চা খেতে খেতে গাঁয়ের আরও দু'-পাঁচজনের চায়ের দামও দিয়ে দিত । এর ফলে গাঁয়ে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেও নিয়েছিল ।        চারটি পুকুর লিজে নিয়েছিল সুনীল । আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে মাছ চাষ শুরু করেছিল । নিজে আরও বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকত বলে প্রায় পুরো দায়িত্ব দিয়েছিল তনুকেই। তনু দিন-রাত পরিশ্রম করত ; আর কীভাবে মাছ চাষ করতে হয় , মাছ নিয়ে ব্যবসা কেমন ভাবে করতে হয় ----শিখত সুনীলের কাছে । টাকা-পয়সার হিসাবের ব্যাপারেও সুনীল বেশ উদার ছিল ----তনুর দেওয়া হিসাবকেই সঠিক বলে মেনে নিত ।       কাজের চাপে পটলদার দোকানে আসাটা ক্রমশ অনিয়মিত হয়ে পড়েছিল তনুর ।.তবু সময় পেলেই চলে আসত । আর এলেই পটলদার সেই বাঁধাধরা কথাই শুনতে পেত ---"বুঝলি তনু , জীবনে সৎ থাকতে হবে । সৎ পথে চলার একটা আনন্দ আছে , রে । বিশ্বাস করে যে দায়িত্ব সুনীল তোকে দিয়েছে , তা ঠিক ভাবে পালন করার চেষ্টা করবি । এই সুনীল ছোকরাটা বেশ ভালো রে  ; সৎ বলতে যা বোঝায় --তাই ।"        পটলদার কথা মনে পড়তেই তনুর হাসি পেয়ে গেল । সুনীল যে কতখানি সৎ ছিল --তার খবর আর কেউ না জানুক , তনু ভালো করেই জানে । হাতে টাকা-পয়সা থাকলে যে যে বদনেশা মানুষের হয় --সব গুলিই সুনীলের ছিল । সুনীল অনেকবারই  চেষ্টা করেছিল  তাকেও ঐসব নেশায় টানতে । কিন্তু যে কোনো কারণেই  হোক , সে নিজের অবস্থান অটুট রাখতে পেরেছিল । কেবল টাকা রোজগারের নেশা ছাড়া অন্য কোনো নেশা তাকে টানতে পারেনি । তবে সুনীলকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করত না ; কারণ , বুঝেছিল বাধা দিয়েও কোনো লাভ হবে না । তাছাড়া সুনীলের দুর্বলতার  খোঁজ পেয়ে মনে মনে খুশিই হয়েছিল সে । হিসাবে কারচুপি করার সুযোগ যথেষ্টই পাওয়া যাবে ---ভেবে উল্লসিত হয়েছিল ।        সুনীলের আর একটা নতুন পরিচয়.তনু জেনে ফেলেছিল একদিন । আর সেইদিন থেকেই পটলদার সাবধান বাণী মন থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলেছিল ।     অনেক টাকার পোনা ছাড়ার পরও সেবার কোনো পুকুরেই ভালো মাছ হয়নি । বেশ বড়ো রকমের ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল । ভাবনায় ভাবনায় অস্থির হয়ে  আশংকার কথা একদিন সুনীলকে জানিয়েছিল । শুনে সুনীল গম্ভীর হয়ে উঠেছিল---চোখে-মুখে চিন্তার ছাপ পড়েছিল । কিন্তু একটু পরেই হেসে উঠেছিল ; বলেছিল -" এর জন্য এত ভাবনার কিছু নাই ---ব্যবস্থা একটা করতে হবে। আর এই ব্যবস্থার ভার আমার উপরই ছেড়ে দাও । "                  পটলদার দোকানে এই তক্তপোশটার উপর বসে সেই দিনই প্রথম সুনীলকে 'রহস্যময় ' বলে মনে হয়েছিল তনুর। অনেক ভেবেও আন্দাজ করতে পারে নি ---কী ব্যবস্থা করতে পারবে সুনীল ? বড়োজোর আরও পোনা ছাড়তে পারবে ; কিন্তু তার সময়ও তো পেরিয়ে গেছে । সুতরাং এবারের ক্ষতি নিশ্চিত ।        সুনীল যে কী করতে পারে ---তা বুঝতে পেরেছিল অনেক রাতে । সেই রাতেও এমনই মুষলধারায় বৃষ্টি পড়ছিল । প্রায় মাঝরাতে ভিজতে ভিজতে সুনীল এসে দাঁড়িয়েছিল কুঁড়েঘরের সামনে । চুপিচুপি ডেকে নিয়েছিল তনুকে , সঙ্গে চলার ইশারা করেছিল । তনু বুঝতে পারেনি --কোথায় নিয়ে যাচ্ছে সুনীল ! হাতে টর্চ থাকলেও কেবলমাত্র পথটুকু দেখা ছাড়া অন্যদিকে আলো ফেলতে নিষেধ করেছিল সুনীল । অনেক দিন ঘোরা-ঘুরি করার ফলে এলাকার পথ-ঘাট সুনীলেরও প্রায় মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল । সোজা হাজির হয়েছিল দত্তবাবুদের পুকুর পাড়ে ।    দত্তবাবুদের এই পুকুরটি বেশ বড়ো --প্রচুর মাছ থাকে ।               তনু প্রথমে অবাক হয়ে ভেবেছিল --"সুনীল এখন এখানে এল কেন ? "    কিন্তু একটু পরেই উদ্দেশ্যটা বুঝতে পেরেছিল । দেখেছিল --পুকুরের পাহারাদার দু 'জন মদের নেশায় বেহুঁশ হয়ে পড়ে আছে চালাঘরটায় --আর জনা দশেক লোক জাল টেনে তুলেছে । লোকগুলি তাঁর অচেনা --সম্ভবত বাইরে থেকে এনেছিল সুনীল। রাতের মধ্যেই দত্তবাবুদের পুকুর প্রায় সাফ করে নিজের দুটো পুকুর ভরিয়ে ফেলেছিল সুনীল ।     পরদিন সকালে হই-চই হলেও সুনীলকে বা তনুকে কেউ সন্দেহ করেনি ; কারণ সন্দেহ করার মতো কোনো প্রমাণই ছিল না ।.সকলেই ভেবেছিল -বাইরের কোনো চোরের কাজ ----দত্তবাবুদের প্রতি আক্রোশে করেছে । তবে পাহারায় গাফিলতির  জন্য দুই পাহারাদারকে বরখাস্ত করেছিলেন দত্তবাবুরা।  বেচারা পাহারাদাররা অনেক ভেবেও বুঝে উঠতে পারেনি --সেদিন এমন বেহুঁশ হয়ে পড়েছিল কী করে !        চুরি করা সেই মাছের টাকার ভাগ পেয়েই প্রথমবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল তনু ।   সুনীলের পরামর্শেই কুঁড়ে ঘরটার পাশেই একটা ভালো বাড়ি তৈরি করার পরিকল্পনা করেছিল । তবে সুনীল ইঁটের দেওয়ালের কথা বললেও তনু রাজি হয়নি ; কারণ হঠাৎ বড়োলোকি ভাব দেখালে লোকে সন্দেহ করতে পারে । তাই মাটির দেওয়াল আর টিনের ছাউনির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ।          সুনীলও মেনে নিয়েছিল তনুর যুক্তি ; কারণ তখন দত্তবাবুদের  মতোই অনেক বাবুদের পুকুরের মাছ মাঝে মাঝেই চুরি হয়ে যাচ্ছিল । একদিন তো তাদেরও দুটো পুকুরের মাছ হাওয়া করে দিল চোরে । অন্য দুটো পুকুরে ভালো মাছ হয়েছিল  এবং তনু নিজে পাহারা দিত বলে চুরি হয়নি ; তাই কোনোরকমে ক্ষতিটা পূরণ হয়েছিল ।         নিঃশব্দে হাসতে হাসতে তনু তক্তপোশ ছেড়ে উঠে দাঁড়াল । মনে মনে বলল --"তারিফ করতেই হয় সুনীলের বুদ্ধির---কী তুখোড় বুদ্ধি ছিল ছেলেটার । " মাঝে মাঝেই বিভিন্ন পুকুরে মাছ চুরি করত সুনীলই ; কেউ যেন সন্দেহ করতে না পারে তাই নিজের পুকুরের মাছ নিজেই চুরি করেছিল ।      জানালার কাছে গিয়ে তনু দেখল --বাইরেটা বেশ পরিষ্কার হয়ে এসেছে ----আকাশেও আর মেঘ নেই । আর দেরি না করে এবার বেরিয়ে যেতেই হবে ; কিন্তু এক কাপ চা চাই যে । চা না খেলে ঘুম ঘুম ভাবটা কাটবে না । টুনিকে তুলল ঘুম থেকে । হাই তুলে চোখ ঘষতে ঘষতে টুনি কোনোরকমে রান্না ঘরে গেল ।      টুনির চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তনুর মনে হল ---টুনি হঠাৎই বেশ মুটিয়ে যাচ্ছে । পাতলা ছিপছিপে সেই টুনিকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এই টুনির মধ্যে । সুনীলের সঙ্গে ঘুরতে ঘুরতেই দূরের এক গাঁয়ে টুনিকে দেখেছিল একদিন। প্রথম দেখাতেই মনে ধরেছিল । কিন্তু মনের কথা তখনই সুনীলকে বলেনি । সুযোগ পেয়ে একদিন নিজেই পরিচয় করেছিল টুনির সঙ্গে । তারপর প্রায়ই লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা করত । বিয়ে করে দু"-জনে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখাত টুনিকে। ঘরটাও ততদিনে হয়ে গিয়েছিল । নতুন ঘরে আসার জন্য টুনিও অস্থির হয়ে উঠেছিল ।          টুনির ঘরের লোক হয়তো কিছু আভাস পেয়েছিলেন ; তাই হঠাৎই টুনির জন্য পাত্রের খোঁজ শুরু করেছিল । একটা সম্বন্ধ প্রায় পাকা করে ফেলেছিল । টুনির মুখে সব কথা শুনে ঠাকুরথানে গিয়ে চুপিচুপি বিয়েটা সেরে নিয়েছিল। সাক্ষী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পূজা দিতে আসা মহিলারা । আর সেইদিনই প্রথম টুনির কথা বলেছিল সুনীলকে । সুনীল প্রথমে খুব রাগ করেছিল ----তারপর হাসতে হাসতে বলেছিল -"গাঁয়ের লোককে ভালো করে ভোজ খাওয়াব ।" কিন্তু তনু নিজেই আপত্তি করেছিল --"আগে সব ঝামেলা মিটে যাক ,তারপর ওসব হবে ।"           টুনি বউ হয়ে ঘরে আসার কিছুদিন পরেই লোকের মুখে শুনেছিল --" পটলদা দোকান তুলে দিচ্ছে ; দোকানের জিনিসপত্র কম দামে বিক্রি করে দিচ্ছে ।" শুনেও তনু যায়নি পটলদার সঙ্গে দেখা করতে । ফাইফরমাশ খাটা ছেলেটাকে পাঠিয়েছিল এই তক্তপোশটা কিনে আনতে । বলে দিয়েছিল -"যা দাম বলবে দিয়ে দিবি ---পিছিয়ে আসবি না । " যেকোনো দামে এই তক্তপোশটা কিনে নিতে চেয়েছিল ; কারণ এটার সঙ্গে তাঁর জীবনের অনেক ইতিহাস জড়িত আছে যে ! তনু পরম মমতায় তক্তপোশটার উপর হাত বুলাতে লাগল ।       টুনি এককাপ চা এনে হাতে ধরিয়ে দিল । হাইতুলতে তুলতে আবার ছেলের পাশে শুয়ে পড়ল । প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই নাক ডাকতে লাগল। পাশের ঘরে মা-বাবার মৃদুকণ্ঠে বলা কথার শব্দ তনুর কানে এল । তনু বুঝতে পারে -আজ মা-বাবা সুখী --টুনি সুখী । কিন্তু এই সুখ সে যে কেমন করে এনেছে --কেউ তা জানে না । সেই গোপন ইতিহাসের একমাত্র সাক্ষী এই তক্তপোশটা ।      সুনীলের দেখানো পথেই তনু হেঁটেছিল । প্রায় প্রতিরাতেই মাছ চুরি করত সুনীলেরই পুকুরে।  রাতের অন্ধকারেই মাছ  বাইরে পাঠিয়ে দিত। সুনীল কোনোদিনই সন্দেহ করেনি --কারণ তনুকে খুব বিশ্বাস করত । তাছাড়া সন্দেহ করার মতো অবস্থা তখন তাঁর ছিলও   না । কোথায় , কী যেন একটা বড়ো-সড়ো কেলেঙ্কারি বাঁধিয়েছিল ----তাই নিয়ে থানা পুলিশ চলছিল । পুলিশের ভয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে বেড়াচ্ছিল ।      সুনীল এখন জেলে ।কেমন করে যেন পুলিশ তাঁর খোঁজ পেয়ে গিয়েছিল  ---  গোপন আস্তানা থেকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল  । সুনীলের পাঁচ বছরের সাজা হয়ে গেছে ।       সাজা শেষে যখন ফিরে আসবে তখন অন্য তনুকে দেখবে । কারণ জেলখাটা আসামির সঙ্গে তনু আর মিশবে না । সমাজে এখন বেশ নাম-ডাক হয়েছে তনুর । নিজের আর লিজে নেওয়া মিলিয়ে পুকুর আছে পাঁচ-সাতটা ; পাকা বাড়ি উঠছে । সুনীলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে না চাইলেও  পুকুরগুলি কিন্তু হাতছাড়া করেনি তনু। কারণ সেগুলির কোনোটিরই লিজের মেয়াদ এখনও শেষ হয়নি । সুনীলের বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসাবে লাভের টাকাও হাতছাড়া করেনি । যখন তখন যে কোনো পুকুরে টহলদারিতে হঠাৎ হাজির হওয়ার অভ্যাসও ছাড়েনি  । যে তক্তপোশে বসে সুনীলের সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয়েছিল সেই তক্তপোশে বসেই  এখন লাভ-লোকসানের হিসাব করে ।        খালি কাপটা রেখে তনু উঠে দাঁড়াল । আর একটুও দেরি করা চলবে না । দুটো পুকুর থেকে মাছ ধরাতে হবে ---বেশ বড়ো অর্ডার আছে । লোক-জন হয়তো এতক্ষণে চলে এসেছে ; কিন্তু সে না যাওয়া পর্যন্ত কেউ জলে নামবে না । কারণ তাঁর নির্দেশ অমান্য করার সাহস তাদের নেই ।         দরজার পাল্লাটা ভেজিয়ে তনু বেরিয়ে গেল । বাইরে তখন ভোরের আলো পরিষ্কার ভাবে ফুটে উঠেছে । পুরো আকাশ নির্মল হলেও পুব আকাশে কালো একটা মেঘখণ্ড থমকে দাঁড়িয়ে আছে । দিগন্ত রেখার লাল রঙ বিচ্ছুরিত হয়ে সেই মেঘের উপর পড়েছে ; মনে হচ্ছে কালো মেঘটা যেন রাগে লোহিত বর্ণ হয়ে যাচ্ছে ।       তনুর চোখের সামনেই মেঘখণ্ডটা হঠাৎ পরেশদার সেই তক্তপোশটার মতো হয়ে গেল ; তক্তপোশটা ধীরে ধীরে যেন এগিয়ে আসছে তনুর দিকে। তনু ভয় পেয়ে চোখ নামিয়ে নিল ---প্রায় ছুটেই চলল পুকুরের দিকে । .     ....      .....   .....        .............   ......

সাধন চন্দ্র সৎপথী সিমলাপাল (পারিজাত পল্লী ) জেলা -বাঁকুড়া

644 views

Subscribe to Our Newsletter

  • White Facebook Icon

© 2023 Powered by Maiti Infomedia Pvt Ltd.